শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক অনুদানের আবেদন চলছে, শেষ তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৬
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য অনুদান আবেদন, শেষ ১৭ মার্চ ২০২৬

শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক অনুদানের আবেদন শুরু

দেশের সকল বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক অনুদানের আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পরিচালন বাজেটের আওতায় এই অনুদান প্রদান করা হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ১৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত।

কাদের জন্য আবেদনের সুযোগ

এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যাবে:

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: দেশের সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত) মেরামত, সংস্কার, আসবাব সংগ্রহ, পাঠাগার স্থাপন, খেলাধুলার সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব করার জন্য অনুদান পেতে আবেদন করতে পারবে। অনগ্রসর এলাকার মানসম্মত প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
  • শিক্ষক-কর্মচারী: বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈবদুর্ঘটনার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন করতে পারবেন।
  • শিক্ষার্থী: সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা দুরারোগ্য ব্যাধি, দৈবদুর্ঘটনা এবং শিক্ষা গ্রহণ কাজে ব্যয়ের জন্য অনুদানের আবেদন করতে পারবে। দুস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায়, রোগগ্রস্থ, গরিব, মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায় ও এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা রেজিস্ট্রারকে প্রথমে মাইগভ প্ল্যাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ব্যানবেইসের সর্বশেষ বার্ষিক শিক্ষা জরিপ-২০২৫-এর তথ্যানুযায়ী মুঠোফোন নম্বর প্রদান করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান/রেজিস্ট্রারের প্রোফাইল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নম্বর দিয়ে প্রোফাইল যাচাই করতে হবে।

প্রোফাইল সম্পন্ন করার পর মাইগভের হোম পেজে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান’ অংশে ক্লিক করে সেবা বাছাই করে নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক আবেদন করতে হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি

  1. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য: ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির সভাপতি কর্তৃক প্রদত্ত এবং উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্তৃক প্রতিপাদিত প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
  2. শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য: জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, প্রতিষ্ঠানপ্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র, চিকিৎসা-সংক্রান্ত ডাক্তারি সনদ এবং দৈবদুর্ঘটনার সপক্ষে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়ন ও সনদ সংযুক্ত করতে হবে।
  3. শিক্ষার্থীদের জন্য: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র এবং স্নাতক/সমমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ/জাতীয় পরিচয়পত্র সংযুক্ত করতে হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য জেলা/উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত ‘প্রতিবন্ধী সনদ’ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত সনদ প্রয়োজন।

অর্থ প্রদানের পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। আবেদনকালে ব্যাংক হিসাবের তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করে MICR চেক বইয়ের একটি চেক পাতার PDF কপি সংযুক্ত করতে হবে। ব্যাংক হিসাব অনলাইন না হলে বা MICR চেক পাতা সংযুক্ত না করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। আবেদনকালে রেজিস্ট্রেশনকৃত (KYC আপডেটসহ) ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর প্রদান করতে হবে। এজেন্ট নম্বর বা মার্চেন্ট নম্বর গ্রহণযোগ্য নয়।

গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক-কর্মচারী একবার এ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ইতিপূর্বে এ খাতের আওতায় সুবিধাপ্রাপ্ত হলে আবার আবেদন করার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। ছাত্র/ছাত্রী ক্যাটাগরিতে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনে তিন বছর পরপর আবেদন করতে পারবে।

আবেদন যাচাই ও প্রেরণ প্রক্রিয়া

প্রাপ্ত আবেদনগুলো জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৮ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল (বিকেল ৫ ঘটিকা অফিস চলাকালীন সময়) এর মধ্যে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বরাবর প্রেরণ করবে। অসম্পূর্ণ আবেদন বা আবেদনের হার্ড কপি গ্রহণযোগ্য হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নীতিমালা-২০২৫ এর আলোকে এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।