গোপালগঞ্জ ও ভৈরবে বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড: নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের আলো ছড়ালো
গোপালগঞ্জ-ভৈরবে বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ ও ভৈরবে বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড: নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের আলো ছড়ালো

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে গোপালগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বন্ধুসভার উদ্যোগে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে গোপালগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে এবং ভৈরবের ব্লু বার্ড স্কুলে আলাদা দুই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

গোপালগঞ্জে বীরাঙ্গনা হেলেনা বেগমের স্মৃতিচারণা

গোপালগঞ্জের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরাঙ্গনা হেলেনা বেগম। তিনি তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, তাঁদের সম্মান দিতে হবে। অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকেই আহত হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের ইতিহাস ভুলে যাওয়ার নয়।” তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিনুর রহমান বলেন, “শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই মাতৃভূমির জন্ম ও স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, তবে তাদের মনে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।” তিনি প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষকদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় ৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে পাঁচজন বিজয়ী নির্বাচিত হয়। বিজয়ীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই উপহার দেওয়া হয়।

ভৈরবে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হকের আবেগঘন আবেদন

ভৈরবের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভৈরব কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হক। তিনি উপস্থিত নতুন প্রজন্মকে তাঁর যুদ্ধের অভিজ্ঞতা শোনান এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশি বেশি বলাবলি না থাকলে দেশের বিপদ বড় হবে। জাতি হিসেবে আমরা কলঙ্কিত হব। অপশক্তির উত্থান ঘটবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্বাভাবিক পথ হারাবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ করে বলেন, “প্লিজ, তোমরা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনাকে মেলানোর চেষ্টা কোরো না। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা চলে না, চলতে পারে না। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে বড় ঘটনা দেশে আগেও ঘটেনি, পরেও ঘটেনি।” তিনি আফসোস করে পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্বল্পতার কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সত্যজিৎ দাস বলেন, “এটি কেবল নিছক পরীক্ষা বা প্রতিযোগিতা নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার এক মহা কর্মযজ্ঞ। একাত্তর কখনো কখনো ঝুঁকিতে পড়ে। একাত্তরকে নিরাপদে রাখতে হবে। একাত্তরকে কোনো দলের এজেন্ডা বানানো যাবে না।”

ভৈরবের অনুষ্ঠানে ১৩১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সাতজন বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তাদের পুরস্কার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই দেওয়া হয়।

দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের উদ্যোগ

‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে প্রথমবারের মতো সারা দেশে মার্চ মাসজুড়ে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে বন্ধুসভা। এর অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ সবার জন্য অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা এবং প্রথম আলোর ওয়েব পেজ ও বন্ধুসভার ফেসবুক পেজে প্রতিদিন কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উভয় অনুষ্ঠানেই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গোপালগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভা গোপালগঞ্জ এবং ভৈরবে ভৈরব বন্ধুসভা অনুষ্ঠানটির আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।