বিশ্বব্যাংক-জাপান স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচি ২০২৬: বিস্তারিত তথ্য
বিশ্বব্যাংক ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘জাপান/বিশ্বব্যাংক স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচি’র ২০২৬ সালের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ৪৪টি প্রোগ্রামের জন্য এই বৃত্তি উন্মুক্ত রয়েছে।
বৃত্তির সুবিধাসমূহ
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো পাবেন:
- সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মৌলিক স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ।
- মাসিক ভাতা, যা দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে।
- যাওয়া-আসার ইকোনমি শ্রেণির বিমানভাড়া।
- প্রতি ভ্রমণে ৬০০ মার্কিন ডলার ভ্রমণভাতা।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি
এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
- আবেদনকারীকে অবশ্যই বিশ্বব্যাংকের সদস্য উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে হবে।
- কোনো উন্নত দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা যাবে না।
- আবেদনের শেষ তারিখের অন্তত তিন বছর আগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
- গত ছয় বছরের মধ্যে অন্তত তিন বছর পূর্ণকালীন উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- আবেদনকালে উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে।
- আগে এই স্কলারশিপ প্রত্যাখ্যান বা অসম্পূর্ণ রাখা যাবে না।
বাছাই প্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন মানদণ্ড
যোগ্য আবেদনগুলো দুজন স্বাধীন মূল্যায়নকারী দ্বারা ১ থেকে ১০ স্কেলে নম্বর দেওয়া হবে। মূল্যায়নের চারটি প্রধান মানদণ্ড হলো:
- পেশাগত অভিজ্ঞতা: ৩০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ।
- পেশাগত সুপারিশপত্র: ৩০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ।
- নিজ দেশের উন্নয়নে অঙ্গীকার: ৩০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ।
- শিক্ষাগত পটভূমি: ১০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপ ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ছিল, যা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপ ৩০ মার্চ থেকে ২৯ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। উল্লেখ্য, বৃত্তির আবেদন লিংক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। কেবল যেসব শিক্ষার্থী নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন (অর্থায়ন ছাড়া) এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যোগ্য হিসেবে শর্টলিস্ট হয়েছেন, তাঁদের কাছেই আবেদন লিংক পাঠানো হবে।
পাঠ্যবিষয় ও অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়
এই বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় অর্থনৈতিক নীতি ব্যবস্থাপনা, করনীতি, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক শাখায় পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও জাপানে অবস্থিত, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক এক্সপোজার বাড়াতে সহায়ক হবে।
