ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হত্যা মামলায় তিন ব্যক্তির সাময়িক বরখাস্ত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক শনিবার তিনটি পৃথক অফিস আদেশ জারি করে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।
বরখাস্তকৃতদের পরিচয়
বরখাস্তকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। এছাড়াও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তের কারণ ও প্রক্রিয়া
অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক জানান, হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ থাকায় সাময়িক বরখাস্ত অপরিহার্য ছিল। তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।" বরখাস্তের সময়কালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে ভাতা পেতে থাকবেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ও তদন্ত
বুধবার দুপুরে আসমা সাদিয়া রুনাকে তার অফিসে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই কক্ষে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্বামী মুহাম্মদ ইমতিয়াজ সুলতান বুধবারই একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হয়, যা সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
তদন্ত কমিটি গঠন
অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনা তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনার সকল দিক খতিয়ে দেখবে এবং দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
