ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হত্যার ঘটনায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
অভিযুক্তদের পরিচয়
অভিযুক্তরা হলেন— সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং বিভাগটির সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে উম্মূল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস।
বরখাস্তের কারণ
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ মার্চ আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৫৪ অনুসারে থানায় প্রাপ্ত আমলযোগ্য অপরাধের প্রাথমিক তথ্যে তাদের নাম থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি শৃঙ্খলাবিধির ১৫(খ) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক জীবন ধারণ ভাতা প্রাপ্ত হবেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, "হত্যা মামলায় তাদের নাম থাকায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা ও দায়ীদের চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
