ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে 'সহমর্মিতার ঈদ' উদ্যোগ: শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
ডিআইইউ বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ' উদ্যোগে শিশুদের আনন্দ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে 'সহমর্মিতার ঈদ' উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ডিআইইউ বন্ধুসভার উদ্যোগে 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচি সম্প্রতি সফলভাবে পালিত হয়েছে। এই মানবিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া। ১ মার্চ তারিখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিশুদের নতুন জামা এবং তাদের পরিবারগুলোর জন্য ঈদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়।

উপদেষ্টাদের দৃষ্টিভঙ্গি: সহমর্মিতা ও দায়বদ্ধতার বার্তা

ডিআইইউ বন্ধুসভার উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুল বাসেত এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, 'ঈদের আসল শিক্ষা হলো সহমর্মিতা ও ভাগাভাগি। শিক্ষার্থীরা যখন নিজের আনন্দের একটি অংশ অন্যের জন্য উৎসর্গ করে, তখনই সমাজে মানবিকতার আলো ছড়িয়ে পড়ে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই ধরনের কার্যক্রম তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অপর উপদেষ্টা তাহযীব উল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, 'এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সহায়তা নয়, এটি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতারও প্রকাশ। তরুণদের মধ্যে এই মানসিকতা সমাজের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।' তিনি বিশ্বাস করেন যে শিক্ষার্থীদের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

কার্যক্রমের বাস্তবায়ন ও অংশগ্রহণ

এই 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিআইইউ বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও কমিটি সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থসহায়তা প্রদান করেন। সংগঠনের সদস্যদের ছোট ছোট অবদান মিলেই এই মানবিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সভাপতি আদিল সরকার বলেন, 'আমরা প্রতি বছরই “সহমর্মিতার ঈদ” কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করি। এ বছরও তারই ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন। আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টায় যদি কিছু মানুষকে সামান্য হলেও আনন্দিত করা যায়, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'

শিশুদের প্রতিক্রিয়া: আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা

উপহার পেয়ে ছোট্ট সুমাইয়া নতুন পোশাকটি হাতে নিয়ে লাজুক হাসিতে বলে, 'এই ঈদে আমিও সবার মতো নতুন জামা পরব।' তার এই সরল অভিব্যক্তি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যকে সার্থক করে তোলে। আরেক কিশোর রিফাত আনন্দে তার জামাটি বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, 'এটা আমার ঈদের বড় উপহার।' শিশুদের এই উচ্ছ্বাস কর্মসূচির সাফল্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র বস্তুগত সহায়তা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিআইইউ বন্ধুসভার এই প্রচেষ্টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।