কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের কঠোর পদক্ষেপ: ১৩ কলেজের একাদশ শ্রেণির পাঠদান স্থগিত
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড-কুমিল্লার অধীনস্থ ১৩টি কলেজের একাদশ শ্রেণি থেকে পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপর্যয়কর ফলাফল।
কোন কোন প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত?
স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরের চারটি করে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি এবং চাঁদপুরের দুটি কলেজ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা নিম্নরূপ:
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনোদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- বিজয়নগরের নিদারাবাদ ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- চাঁনপুর আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- তোহা স্মৃতি গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- লক্ষ্মীপুর সদরের কেমব্রিজ সিটি কলেজ
- রামগতির সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- লালমাই সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ
- চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ
- দাউদকান্দির ভাজরা এসইএসডিপি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জিবগাঁও জেনারেল হক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- শরীফ উল্ল্যাহ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত?
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর রুনা নাছরীন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার মাত্র শূন্য থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ৭ জানুয়ারি বোর্ড চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা কমিটির সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. নুরুন্নবী আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও মান উন্নয়নে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত পূরণ করলে আবারও একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে।
প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করার পর, গত ৫ মার্চ বোর্ড কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বোর্ডের দৃঢ় প্রত্যয়কে প্রতিফলিত করে। প্রফেসর নুরুন্নবী আলমের মতে, একাদশ শ্রেণিতে ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফলাফল করাই এই ব্যবস্থার মূল কারণ।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও কঠোর নজরদারি ও সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।



