তেজগাঁও কলেজে পরীক্ষায় নকল ধরায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষায় নকল ধরার অভিযোগে এক শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে কলেজ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল রানা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক সোহেল রানা পরীক্ষার হলে নকলের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন। তিনি বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটিকে জানালে অভিযুক্তরা তাকে লাঞ্ছিত করে। পরবর্তীতে পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হলে ওই দুই পরীক্ষার্থী অতর্কিত হামলা চালায় এবং মারধর করে সোহেল রানাকে আহত করে। পরে অন্য শিক্ষকদের সহায়তায় আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল রানা জানান, পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র জমা দিয়ে বের হওয়ার পরই তারা অতর্কিত হামলা চালায়। কোনো কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে।
কলেজ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিন বলেন, অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত দুই পরীক্ষার্থী হলেন আইডিয়াল ল’ কলেজের এলএলবি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাসেল মিয়া ও শরিফুল ইসলাম। কলেজ প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব
এ ধরনের ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার গুরুত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তেজগাঁও কলেজের এ ঘটনা শিক্ষা খাতে নিরাপত্তা ও নিয়মকানুনের প্রয়োগের দিকে নতুন করে আলোকপাত করেছে।



