ঢাবির নতুন উপাচার্য পদে ৫ শিক্ষকের নাম আলোচনায়, নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগ
ঢাবির নতুন উপাচার্য পদে ৫ শিক্ষকের নাম আলোচনায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগ, পাঁচ শিক্ষকের নাম আলোচনায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদটি শূন্য হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পদত্যাগের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, উপাচার্য রোববার সকালেই মন্ত্রীর কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পরই পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেই নতুন একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শীর্ষ পদে কে নিয়োগ পাবেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলাপ-আলোচনা জোরেশোরে চলছে।

নতুন উপাচার্য পদে আলোচিত পাঁচ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক

উপাচার্য পদে কারা নিয়োগ পেতে পারেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই ঢাবি ক্যাম্পাসে আলোচনা-গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এই পদে এগিয়ে রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগ দিয়ে চলতি সপ্তাহের যেকোনো সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনায় থাকা শিক্ষকদের তালিকা নিম্নরূপ:

  1. অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া, তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের সভাপতি ছিলেন।
  2. অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) বর্তমান সভাপতি। তিনি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং বাগেরহাট-৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন।
  3. অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক।
  4. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক।
  5. অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান: সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ইউট্যাবের বর্তমান মহাসচিব এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সীমা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর দ্রুত নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাঁচ আলোচিত শিক্ষকের মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এই নিয়োগ উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিচালনাকে প্রভাবিত করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে, তার নতুন উপাচার্যের নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই পদটি শূন্য হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।