পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা: জড়তা, বল ও ঘর্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যায়-৩১ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, যেখানে জড়তা, প্রকৃতির মৌলিক বল এবং ঘর্ষণের মতো মৌলিক ধারণাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এই অধ্যায় থেকে প্রায়ই বিভিন্ন পরীক্ষায় বহুনির্বাচনি প্রশ্ন আসে, যা শিক্ষার্থীদের বুঝতে সহায়তা করে। নিচে এই অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও তাদের সঠিক উত্তর নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হলো।
জড়তা সম্পর্কিত প্রশ্ন
প্রথম প্রশ্নে জড়তার ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে বস্তুর জড়তা যত বেশি, তাকে গতিশীল করা তত কঠিন এবং তার বেগ পরিবর্তন করাও তত কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া জড়তার সাথে ভরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, অর্থাৎ ভর যত বেশি, জড়তাও তত বেশি। তাই প্রশ্নে উল্লিখিত তিনটি বিবৃতিই সঠিক, যার সঠিক উত্তর হলো ঘ. i, ii ও iii।
প্রকৃতির মৌলিক বল
প্রকৃতিতে বিদ্যমান মৌলিক বলের সংখ্যা নিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নটি করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানের মতে, প্রকৃতিতে চারটি মৌলিক বল রয়েছে: মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল, সবল নিউক্লীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লীয় বল। তাই সঠিক উত্তর গ. চারটি।
তৃতীয় প্রশ্নে সবচেয়ে দুর্বল বল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। মহাকর্ষ বল হলো প্রকৃতির সবচেয়ে দুর্বল বল, যদিও এটি বৃহৎ স্কেলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক উত্তর গ. মহাকর্ষ বল।
বিভিন্ন বলের বৈশিষ্ট্য
চতুর্থ প্রশ্নে পদার্থবিজ্ঞানের চমকপ্রদ বল হিসেবে মহাকর্ষ বলকে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এটি মহাবিশ্বের গঠন ও নক্ষত্রের গতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পঞ্চম প্রশ্নে গ্যালাক্সির ভেতর নক্ষত্রদের ঘূর্ণনের জন্য দায়ী বল হলো মহাকর্ষ বল, যা তাদের কক্ষপথে ধরে রাখে।
ষষ্ঠ প্রশ্নে বিদ্যুতের খুঁটি ও ট্রান্সফরমারের মধ্যে আকর্ষণ বল হিসেবে মহাকর্ষ বল কাজ করে, যদিও এটি দুর্বল। সপ্তম প্রশ্নে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল হিসেবে সবল নিউক্লীয় বলকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনকে বাঁধে।
অষ্টম ও নবম প্রশ্নে প্রোটন ও নিউট্রনের ভেতর এবং নিউক্লিয়াসের মধ্যে আটকে রাখার জন্য সবল নিউক্লীয় বলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, যা নিউক্লিয়ার শক্তির মূল ভিত্তি।
বলের সমতা ও ঘর্ষণ
দশম প্রশ্নে কোনো বস্তুতে ক্রিয়াশীল দুটি বলের মান সমান এবং দিক বিপরীতমুখী হলে তাদের সাম্য বল বলা হয়। একাদশ প্রশ্নে সাম্য বলের লব্ধি শূন্য হয়, যা বস্তুর সাম্যাবস্থা নির্দেশ করে।
দ্বাদশ প্রশ্নে প্যারাসুটে চড়ে নিচে নামার ক্ষেত্রে প্রবাহী ঘর্ষণ বল কাজ করে, যা বায়ুর প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। ত্রয়োদশ প্রশ্নে মাছ পানিতে চলাচলের জন্য প্রবাহী ঘর্ষণ ব্যবহার করে, যা তাদের সাঁতারে সহায়তা করে।
চতুর্দশ প্রশ্নে ঘর্ষণ বৃদ্ধি করার উপায় হিসেবে তলকে অমসৃণ করা উল্লেখযোগ্য, কারণ অমসৃণ তলে ঘর্ষণ বল বেশি হয়। পঞ্চদশ প্রশ্নে জুতার নিচে খাঁজকাটা থাকার প্রধান কারণ হলো ঘর্ষণ বলের জোগান দেওয়া, যা পিছলানো রোধ করে নিরাপত্তা বাড়ায়।
উত্তরসহ সারসংক্ষেপ
- ঘ. i, ii ও iii
- গ. চারটি
- গ. মহাকর্ষ বল
- ক. মহাকর্ষ
- ঘ. মহাকর্ষ বল
- ক. মহাকর্ষ বল
- ঘ. সবল নিউক্লীয় বল
- খ. সবল নিউক্লীয় বল
- ঘ. সবল নিউক্লীয় বল
- ক. সাম্য বল
- গ. সাম্য বল
- খ. প্রবাহী
- ঘ. প্রবাহী
- খ. তলকে অমসৃণ করার মাধ্যমে
- খ. ঘর্ষণ বলের জোগান দিতে
এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাগুলো বুঝতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। রমজান মাহমুদ, সিনিয়র শিক্ষক, গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুল, ঢাকা এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
