পেন বাংলাদেশের অনলাইন প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন
পেন বাংলাদেশের অনলাইন প্রদর্শনীতে মাতৃভাষা দিবস পালন

পেন বাংলাদেশের অনলাইন প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

পেন বাংলাদেশ যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সাহিত্যিক অবদানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সূচনা ও স্বাগত বক্তব্য

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তূজা। তিনি মাতৃভাষার গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর স্বীকৃতির উপর জোর দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেন ইন্টারন্যাশনালের ট্রান্সলেশন অ্যান্ড লিঙ্গুইস্টিক রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান উর্তজি উরুতিকোয়েতশেয়া, যিনি ভাষার অধিকার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন।

ভাষা আন্দোলনের ডকুমেন্টেশন উপস্থাপন

বরিশাল থেকে আনিসুর রহমান স্বপন ফটোগ্রাফ, বই ও জার্নালের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের একটি সমৃদ্ধ ডকুমেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে ভাষা দিবস উপলক্ষে প্রদর্শনী পরিচালনা করে আসছেন, যা এই অনুষ্ঠানে তার অভিজ্ঞতা ও সংগ্রহশালার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এই উপস্থাপনা ভাষা আন্দোলনের স্থানীয় ও জাতীয় ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলে।

গ্রন্থ আলোচনা ও কবিতা পাঠ

লেখক ও গবেষক সুপা সাদিয়া তার ‘বায়ান্নর ৫২ নারী’ গ্রন্থ নিয়ে সাকিরা পারভীনের সঞ্চালনায় একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় সেশনে অংশ নেন। এছাড়া, বাংলা ভাষায় কবিতা পাঠ করেন আসাদ মান্নান, আসমা চৌধুরী, মোস্তফা তারিকুল আহসান, শাহনাজ নাসরীন, সরোজ মোস্তফা, আশরাফ জুয়েল, আনিফ রুবেদ, সাকিরা পারভীন, জাহিদ সোহাগ এবং হেমায়েত উল্লাহ ইমন। অনুষ্ঠানে আচিক ভাষায় কবিতা পাঠ করেন পরাগ রিছিল, সাঁওতালী ভাষায় ইশান শান্ত এবং মাল পাহাড়িয়া ভাষায় জয় খ্রীস্টফার বিশ্বাস, যা ভাষার বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিকে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা ও সমাপ্তি

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পেন বাংলাদেশের বোর্ড মেম্বার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন। তার দক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সুসংগঠিত ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই অনলাইন প্রদর্শনী ভাষা দিবসের তাৎপর্যকে ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভাষা প্রেম ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে শক্তিশালী করেছে।