মৃন্ময় নন্দীর গবেষণার পথ: দুর্বল রেজাল্টকে জয় করে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি
দুর্বল রেজাল্ট জয় করে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি: মৃন্ময় নন্দীর গল্প

দুর্বল রেজাল্টকে পেছনে ফেলে গবেষণার পথে মৃন্ময় নন্দী

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মৃন্ময় নন্দীর প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট আশানুরূপ হয়নি। সাধারণত শিক্ষার্থীরা এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়েন, কিন্তু মৃন্ময় ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে নতুন কিছু শেখা ও করার দিকে মনোযোগ দেন, যা গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে।

গবেষণার প্রতি আকর্ষণ ও পিএইচডির সিদ্ধান্ত

ল্যাব প্রজেক্ট ও ছোটখাটো বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গবেষণায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মৃন্ময়। তিনি ভাবতে শুরু করেন, মাস্টার্সে না গিয়ে সরাসরি পিএইচডির দিকে এগোনো যায় কিনা। মৃন্ময় বলেন, ‘সব সময় নতুন কিছু শিখতে ভালোবাসি, বিশেষ করে যেটা প্র্যাকটিক্যাল। শুধু পড়ার জন্য পড়া আমাকে টানে না। এই আগ্রহ আমাকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করেছে।’ বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে মাইক্রোবায়োলজিতে পিএইচডি করছেন।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন

তবে সরাসরি পিএইচডির আবেদন করার পথটি সহজ ছিল না। তুলনামূলক দুর্বল একাডেমিক রেজাল্ট ও জিআরইর স্কোর ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্লাসের অন্যান্যদের তুলনায় মৃন্ময়ের সিজিপিএ কম থাকায় আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। জিআরই পরীক্ষার মক টেস্টে ভারবাল রিজনিংয়ে ভালো স্কোর না আসায় তিনি প্রথমে পরীক্ষা পিছিয়েও নেন। পরে সাহসের সঙ্গে সবকিছু সামলেন তিনি। মৃন্ময় বলেন, ‘আমি নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, যা হওয়ার হবে। খারাপ হলে খারাপই হবে, আর ভালো হলে ভালো। নিজেকে এই কথা বলে পরীক্ষার দিনে মাথা ঠান্ডা রাখতে চেষ্টা করেছি।’

গবেষণার ভিত্তি ও সাফল্যের রহস্য

ছোট ছোট রিসার্চ প্রোজেক্ট, ল্যাবের অভিজ্ঞতা ও নতুন দক্ষতা রপ্ত করা তাঁর পিএইচডির ভিত তৈরি করেছে বলে মনে করেন মৃন্ময়। পুরো যাত্রায় ভয়, ব্যর্থতা ও চাপ এসেছে, কিন্তু তিনি হার মানেননি। তিনি বলেন, ‘গবেষণার প্রতি আগ্রহই আমার সবকিছুর ভিত্তি। ছোট ছোট প্রোজেক্ট ধীরে ধীরে বড় গবেষণার দিকে এগিয়ে নিয়েছে। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে করতে শেখার চেষ্টা করেছি। ছোট ছোট অভিজ্ঞতাকে আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করেছি।’

মাইক্রোবায়োলজি ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সংযোগ

মৃন্ময় নন্দীর গবেষণার মূল বিষয় মাইক্রোবায়োলজি ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সংযোগ। স্নাতকজীবন থেকে এসব নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর আবেদনকে এগিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অধ্যাপকের কাজের সঙ্গে নিজের গবেষণার কিছু মিল কিংবা প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলেই ইন্টারভিউয়ে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। গবেষণা ও আত্মবিশ্বাসই আমার প্রোফাইলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বলে আমার মনে হয়। পিএইচডিতে যাওয়ার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মবিশ্বাস এবং নিজের আগ্রহ অনুসরণ করা। যদি আপনি সত্যিই কিছু শিখতে এবং গবেষণা করতে চান, ছোটখাটো ব্যর্থতাকে ভয় পেলে চলবে না। সবকিছুর মধ্যেই কিছু না কিছু শেখার আছে।’