ইরানি তেল কেনায় ভারতের ইউয়ান লেনদেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ শেষ
ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো ইরান থেকে কেনা জ্বালানি তেলের মূল্য ডলারের পরিবর্তে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করছে। এই লেনদেন ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন চারটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য, যেখানে তেলের মূল্য পরিশোধে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও রিলায়েন্সের তেল কেনা
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মাসের শুরুতে ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন প্রায় নয় বছর পর প্রথমবারের মতো ইরান থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে। এই চালানের তেলের মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার, যা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া, আরেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেল বহনকারী চারটি জাহাজ সম্প্রতি ভারতের বন্দরে ভিড়েছে। এর মধ্যে এমটি ফেলিসিটি নামের একটি জাহাজ ইতিমধ্যে তেল খালাস করেছে।
আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউয়ান লেনদেন
ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন এবং রিলায়েন্স—উভয় প্রতিষ্ঠানই তাদের তেলের মূল্য পরিশোধের জন্য আইসিআইসিআই ব্যাংকের সেবা ব্যবহার করছে। ব্যাংকটি তার সাংহাই শাখার মাধ্যমে ইউয়ানে তেলের দাম ইরানের বিক্রেতাদের কাছে পাঠাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি ডলার-ভিত্তিক লেনদেনের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে, যা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ শেষ
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও রাশিয়ার জ্বালানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল, যুদ্ধের জেরে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত বুধবার জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না, অর্থাৎ ইরানের তেল কেনায় এই ছাড় আজ রোববার শেষ হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি ভবিষ্যতে ইরানি তেল বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ভারতের মতো ক্রেতাদের জন্য।
প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ
এই বিষয়ে আইসিআইসিআই ব্যাংক, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেও রয়টার্স কোনো সাড়া পায়নি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তেলের মূল্য পরিশোধে জটিলতা থাকায় অনেক ক্রেতা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ইউয়ান-ভিত্তিক লেনদেন একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



