রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি
রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. দুলাল আলী মোল্লাহকে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সোমবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪৬তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপটি অভিযোগের গুরুত্ব ও জরুরি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

মামলার বিস্তারিত ঘটনা

জানা গেছে, ড. মো. দুলাল আলী মোল্লাহর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গত ৪ জানুয়ারি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এক নারী। মামলার এজাহার সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও চলে, যা পরবর্তীতে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮–৯টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে ভুক্তভোগীকে চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তাকে আটকে রেখে বারবার ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়, যা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নির্যাতনের পরবর্তী ঘটনা

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুসারে, পরদিন (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি এক নারীকে ‘বউ’ সাজিয়ে এবং আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরে আসেন। এই সময়ে ভুক্তভোগীকে মারধরসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়, যা তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে বাসায় একা ফেলে গ্যাস ও পানি বন্ধ করে দিয়ে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন, যা ঘটনার ভয়াবহতা ও মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অধ্যাপকের অব্যাহতি দেওয়া হলেও মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, এবং পুলিশি তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।