ঢাকায় প্রথমবারের মতো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাডমিশন ফেয়ার অনুষ্ঠিত
ঢাকায় প্রথম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাডমিশন ফেয়ার অনুষ্ঠিত

‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাডমিশন ফেয়ার ২০২৬’–এর আয়োজন করে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও প্রথম আলো ডটকম। গতকাল রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রথম আলো

এক ছাদের নিচে অনেক অপশন নিয়ে প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাডমিশন ফেয়ার ২০২৬’। এতে অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা ফেয়ারে অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্লে-গ্রুপ থেকে প্রাইমারি এবং ও/এ লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তিবিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ জানতে পেরেছেন।

অ্যাডমিশন ফেয়ারের বিস্তারিত

গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে এই অ্যাডমিশন ফেয়ারের আয়োজন করা হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিল ও প্রথম আলো ডটকম যৌথভাবে এই আয়োজন করে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে মেলা চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রবেশাধিকার সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। ‘সঠিক সিদ্ধান্ত, সুন্দর ভবিষ্যৎ’ স্লোগানে ২৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনে শুরু হওয়া মেলাটি চলবে ৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত। গতকাল শনিবার ছিল সরাসরি উপস্থিত হয়ে অভিভাবকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা

ধানমন্ডি থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে আয়োজনটি দেখতে আসেন ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম। তাঁর ছেলে কাইফারুল ইসলাম গ্রেড ফোর থেকে ফাইভে উঠবে। তার জন্য ঢাকার সেরা স্কুল খোঁজার জন্য এখানে এসেছেন। কামরুল ইসলাম বলেন, এমন আয়োজন বাংলাদেশে প্রথম। প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ থেকে এ আয়োজনের খোঁজ পাই। এক ছাদের নিচে অনেক অপশন, যা সঠিক স্কুল বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে আমাদের মতো অভিভাবকদের জন্য সহজ করেছে।

বিদেশি স্কুল সম্পর্কে তথ্য

আয়োজকেরা জানান, শুধু দেশের সেরা স্কুল সম্পর্কেই নয়, এ আয়োজনে এসে বিদেশের স্কুল সম্পর্কেও জেনেছেন অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে যে শিক্ষার্থীরা ‘ও লেভেল’ শেষ করে ‘এ লেভেল’–এ ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য নিউজিল্যান্ড, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা স্কুল সম্পর্কে জানার সুযোগ ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশ্নোত্তর পর্ব

বিকেলে আয়োজন করা হয় একটি বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্ব। যেখানে অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এতে সঞ্চালনা করেন উপস্থাপিকা স্মিতা চৌধুরী। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মুখস্থ করার চেয়ে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে। তাই দক্ষতা বাড়াতে পাঠ্যবই ও প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের সঙ্গে বিতর্ক, খেলাধুলা ও নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনকে প্রাধান্য দিচ্ছে দেশের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলো।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের একাউন্ট ম্যানেজার (স্কুল) সৈয়দ ফাহিম ফয়সাল বলেন, দেশের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করে। তারা ক্যারিয়ারের লক্ষ্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থাগুলো শিক্ষার্থীদের এই পথচলায় পূর্ণ সহযোগিতা দেয়।

সফল ব্যক্তিদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত রাখা। এমনটি বলেন প্রফেশনাল করপরেট ট্রেইনার গোলাম সামদানি ডন। তাঁর মতে, প্রাতিষ্ঠানিক ভালো ফলাফলই শুধু সাফল্যের চাবিকাঠি নয়, বরং যেকোনো কাজে লেগে থাকার মানসিকতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাই মানুষকে প্রকৃত অর্থে সফল করে তোলে।

বাংলাদেশের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সিএইচএস এডুকেশন লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও নাজমুল হাসান রাজু। তিনি জানান, দেশের স্কুলগুলোর পাঠ্যক্রম এখন অনেক আধুনিক এবং বিশ্বমানের। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা কেবল ভালো ফলের জন্য নয়, বরং জীবন পরিচালনার দক্ষতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোও শিখছে।

পার্টনার ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান

দিনব্যাপী এ আয়োজনটির পাওয়ার্ড বাই ছিল সিএইচএস এডুকেশন লিমিটেড। ব্যাংকিং পার্টনার প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। আইসক্রিম পার্টনার ছিল পোলার আইসক্রিম। অ্যাডমিশন ফেয়ারে অংশ নিয়েছে ফ্রোবেল প্লে স্কুল, ফ্রোবেল একাডেমি, ইনসাইট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, নিউ হরাইজন কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল এবং হেইলিবেরি ভালুকা ইত্যাদি।

অন্যান্য কার্যক্রম

মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে ওয়েবসাইটে। মেলায় ভর্তিবিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ ছাড়াও শিশুদের জন্য ছিল গেমিং জোন। সেখানে দিনব্যাপী ছিল নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় র্যাফেল ড্র। বিজয়ী তিনজনের জন্য ছিল ব্রাদার্স ফার্নিচারের সৌজন্যে আকর্ষণীয় পুরস্কার।