কক্সবাজারের একটি স্থানীয় হোটেলে ২১ মে 'শৈশব লালন, আগামীর প্রস্তুতি' শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডেনমার্কভিত্তিক লেগো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ব্র্যাকের পাঁচ বছরের শৈশব বিকাশ অংশীদারিত্বের সূচনা হয়েছে। এই উদ্যোগটি আগামী পাঁচ বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানীয় সম্প্রদায়ের ০-১৮ বছর বয়সী ২ লাখ ২০ হাজার শিশু পর্যন্ত পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
হিউম্যানিটারিয়ান প্লে ল্যাব মডেল
এই প্রকল্পে ব্র্যাকের প্রমাণিত হিউম্যানিটারিয়ান প্লে ল্যাব (এইচপিএল) মডেল ব্যবহার করা হবে, যা খেলাভিত্তিক শিক্ষা, মনোসামাজিক সুস্থতা এবং সামগ্রিক বিকাশকে উৎসাহিত করে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ব্র্যাকের হিউম্যানিটারিয়ান ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচসিএমপি)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানের বক্তারা
স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের হিউম্যানিটারিয়ান ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচসিএমপি) ও ব্র্যাক হেলথ প্রোগ্রামের (বিএইচপি) সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. মো. আকরামুল ইসলাম। সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক এইচসিএমপির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ও অফিসার-ইন-চার্জ (ওআইসি) রেজাউল করিম। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক এইচসিএমপির স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শৈশব বিকাশ (ইসিডি) সেক্টরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) ডা. ইশরাত নাবিলা।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ব্র্যাকের শিক্ষা, অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান; ব্র্যাক হেলথ প্রোগ্রামের (বিএইচপি) অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ডা. শায়লা ইসলাম; কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ চেবার; ক্যাম্প-ইন-চার্জ (সিআইসি) গাজী শরিফুল হাসান (ক্যাম্প ৬ ও ৮ পূর্ব); সিআইসি মো. মিনহাজুল ইসলাম (ক্যাম্প-১২ ও ১৮); মোহাম্মদ আব্দুর রউফ (ক্যাম্প ৩ ও ৫); এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আরআরআরসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, 'এই উদ্যোগটি সত্যিই অর্থবহ কারণ ব্র্যাক শিশুদের সামগ্রিকভাবে দেখে। আমরা সবাই এই উদ্যোগের অংশ হতে পারি, সম্মিলিতভাবে।'
প্রোগ্রামের মূল উপাদান
'প্রোগ্রাম ওভারভিউ' বিষয়ে বিশেষ উপস্থাপনা দেন ব্র্যাক এইচসিএমপির স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শৈশব বিকাশ (ইসিডি) প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর ডা. এস এম হাসানুজ্জামান এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (বিআইইডি) প্রোগ্রাম প্রধান সৈয়দা সাজিয়া জামান। এই কর্মসূচি পাঁচটি মূল উপাদানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে: প্রতিক্রিয়াশীল যত্ন, খেলাভিত্তিক শিক্ষা, আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় রূপান্তরের জন্য সহায়তা, কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম এবং সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা। এই উদ্যোগটি সম্পূর্ণরূপে লেগো ফাউন্ডেশন দ্বারা অর্থায়িত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্য
উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের মতে, শিশুর মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ শতাংশ বিকাশ ঘটে জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনের মধ্যে। এই দুটি সংস্থা যৌথভাবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত নার্চারিং কেয়ার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা শৈশব বিকাশের পাঁচটি অপরিহার্য উপাদান চিহ্নিত করে: সুস্বাস্থ্য, পর্যাপ্ত পুষ্টি, প্রতিক্রিয়াশীল যত্ন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ।
ব্র্যাক ২০১৮ সাল থেকে কক্সবাজারে হিউম্যানিটারিয়ান প্লে ল্যাব মডেল বাস্তবায়ন করছে এবং গত ছয় বছরে ব্যাপক মাঠ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী পদ্ধতি তৈরি করেছে। নতুন এই উদ্যোগটি কক্সবাজার জেলার ১৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং আটটি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।
ব্র্যাকের অগ্রণী ভূমিকা
আয়োজকরা জানান, ব্র্যাক অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃত এবং ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৬০ হাজার স্কুল পরিচালনা করেছে। ব্র্যাক প্লে ল্যাব মডেল বাংলাদেশ, উগান্ডা এবং তানজানিয়ায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।



