জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটসংলগ্ন দেয়াল ও সীমানা প্রাচীর থেকে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মারক গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা এটিকে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলার অপচেষ্টা বলে দাবি করছেন।
ঘটনার সূত্রপাত
গত শনিবার (১৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে ‘ফ্যাসিবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন।
সরেজমিন পরিস্থিতি
সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটসংলগ্ন বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতির ওপর সাদা রং করা হচ্ছে। রং করার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তাদের কাছে দেয়ালের সব গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটসংলগ্ন সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল রয়েছে। গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী সময়ে এসব দেয়ালে ফ্যাসিবাদবিরোধী, দুর্নীতিবিরোধী এবং রাষ্ট্র সংস্কারধর্মী নানা গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি সেই দেয়ালগুলোর গ্রাফিতি সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালজুড়ে ফুটে উঠেছিল আন্দোলনের স্মৃতি, প্রতিবাদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের আহ্বান। দেড় বছরের মাথায় সেসব চিত্র মুছে দেওয়াকে তারা ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, ক্যাম্পাস থেকে জুলাইকে সুকৌশলে মুছে ফেলা হচ্ছে। গণভোটের ব্যানারগুলো নিজের টাকা খরচ করে লাগিয়েছিলাম, নির্বাচনের পর সেগুলোও খুলে ফেলা হয়েছে। এবার জুলাই যুদ্ধের স্মৃতিও মুছে ফেলা হচ্ছে। আরেক শিক্ষার্থী মহসীন হক শাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ইচ্ছা করলেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধারণ করতে পারবে না। গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের আগে তারা কোথায় ছিলেন, সেটি শিক্ষার্থীরাই জানে। এখন ক্ষমতা পেয়ে তারা সব ভুলে গেছেন।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে রঙ করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট স্থান গ্রাফিতির জন্য বরাদ্দ ছিল কিনা, তা তার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার ও রঙ করা হচ্ছে। যদি অনুমোদন নিয়ে কোথাও গ্রাফিতি আঁকা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আমাদের ইঞ্জিনিয়ার টিম রঙসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করছে। এর বাইরে এ বিষয়ে তিনি আর কিছু জানেন না।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বক্তব্য
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।



