ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)-এর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
ডিগ্রি প্রদানের বিবরণ
অনুষ্ঠানে ১১৬ জনকে বিবিএ, ১২৬ জনকে এমবিএ, ১২২ জনকে ইএমবিএ এবং একজন শিক্ষার্থীকে ডিবিএ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া, ২৬ জন শিক্ষার্থী অসাধারণ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ডিরেক্টরস অনার লিস্টে স্থান অর্জন করেন এবং দুইজন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।
প্রধান অতিথি ও সভাপতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সফলভাবে শিক্ষা সম্পন্ন করায় অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় আমাদের প্রয়োজন এমন ব্যবসায়িক পেশাজীবী, যারা জ্ঞান, দক্ষতা, অধ্যবসায়, মানবিকতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে উঠবে। বৈশ্বিক অর্থনীতির এই সন্ধিক্ষণে আমরা এক নতুন ও রূপান্তরমুখী অধ্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইবিএ’র পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার চ্যালেঞ্জ যেমন কঠিন, তেমনি একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার তৃপ্তি অতুলনীয়। তিনি শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক চিন্তা, বিবেচনাপ্রসূত ঝুঁকি গ্রহণ এবং প্রচলিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ করার আহ্বান জানান।
মুখ্য বক্তার বক্তব্য
অনুষ্ঠানে মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি নবস্নাতকদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের এই মুহূর্ত আমাকে আমার ছাত্রজীবনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। যখন দেশ তার আর্থসামাজিক পরিচয় পুনর্গঠনের পথে ছিল, আপনাদের মতো আমরাও এক পরিবর্তনশীল সময় অতিক্রম করেছি। আপনাদের মধ্যে আমি সেই সম্ভাবনা ও অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
শুভেচ্ছা বক্তব্য
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আইবিএ’র অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আমিন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্বকে যেমন আছে তেমনভাবে মেনে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে আরও উন্নতভাবে গড়ে তোলাই তাদের দায়িত্ব। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং সততা ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।



