প্রিয় পরীক্ষার্থী, এসএসসি রসায়ন পরীক্ষায় ভালো করার জন্য অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রশ্নের ধরন ও নম্বর বণ্টন বুঝে পড়াশোনা করলে সাফল্য আসবে। নিচে প্রতিটি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও কৌশল আলোচনা করা হলো।
পরীক্ষার কাঠামো ও নম্বর বণ্টন
রসায়ন পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে বহুনির্বাচনি অংশে ২৫ নম্বর, সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্নে ১০ নম্বর, সৃজনশীল অংশে ৪০ নম্বর ও ব্যবহারিক অংশে ২৫ নম্বর থাকবে। এবার ১০ নম্বরের ছোট প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, যেখানে ৫টি প্রশ্নের জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ। এই প্রশ্নের ধরন সৃজনশীল প্রশ্নের ‘খ’-এর মতো হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সংজ্ঞা, উদাহরণ বা সমীকরণ থাকলে তা সংজ্ঞার সঙ্গে উল্লেখ করতে হবে। নির্বাচিত অধ্যায়গুলো হলো: তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও একাদশ (আংশিক)।
তৃতীয় অধ্যায়: পরমাণুর গঠন
এই অধ্যায়ের ‘ক’ ও ‘খ’ অংশের জন্য কিছু বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: পারমাণবিক সংখ্যা, ভরসংখ্যা, পরমাণু, অণু, প্রতীক সংকেত, আপেক্ষিক ভর, আপেক্ষিক আণবিক ভর, আইসোটোপ, তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, পরমাণুর মূল কণিকা এবং পরমাণু ত্বরিত নিরপেক্ষ কেন। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশের জন্য পরমাণু মডেলগুলোর তুলনামূলক আলোচনা, প্রতিটি অর্বিটালে ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা, বোরের দ্বিতীয় স্বীকার্যের সংশ্লিষ্ট অঙ্ক শিখতে হবে। এছাড়া তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার জানা জরুরি।
চতুর্থ অধ্যায়: পর্যায় সারণি
এই অধ্যায়টি রসায়নের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে বিভিন্ন গ্রুপের বিশেষ নাম যেমন ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় মৌল—এসব নামের কারণ ‘খ’ প্রশ্নের জন্য জরুরি। ত্রয়ী, অষ্টক, নিউল্যান্ড, মেন্ডেলিকের সূত্র, পর্যায় সারণি, অবস্থান্তর ধাতু, এদের ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্য মনে রাখতে হবে। পর্যায়বৃত্ত ধর্মের পরিবর্তনের ব্যাখ্যা ও মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে অবস্থান নির্ণয় জানতে হবে, যা সৃজনশীল ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্নের অংশ।
পঞ্চম অধ্যায়: রাসায়নিক বন্ধন
এই অধ্যায়ের যোজ্যতা ইলেকট্রন, যোজনী, সক্রিয় যোজনী, চরম যোজনী, সুপ্ত যোজনী, যৌগমূলক, দুইয়ের নিয়ম, অষ্টক নিয়ম, পোলার যৌগ, সমযোগী বন্ধন, আয়নিক বন্ধন, ধাতব বন্ধন, মুক্তজোড় ইলেকট্রন, বন্ধনজোড় ইলেকট্রন—এগুলো ‘ক’ ও ‘খ’ অংশের প্রশ্নে আসে। পানি দ্রাবতা, গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অষ্টক সংকোচন, সম্প্রসারণ, ধাতুর বৈশিষ্ট্য ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশের অন্তর্ভুক্ত।
ষষ্ঠ অধ্যায়: মোল ধারণা ও স্টয়কিওমিতি
এটি অঙ্কনির্ভর অধ্যায়। ‘ক’ ও ‘খ’ অংশের জন্য মোল, মোলারিটি, STP, মোলার ঘনমাত্রা, অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যা, লিমিটিং বিক্রিয়ক, অ্যানালার, স্টয়কিওমিতি, রাসায়নিক সমীকরণ, বিক্রিয়ার সমতাকরণ ইত্যাদি জরুরি। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশের জন্য শতকরা সংযুক্তি, আণবিক সংকেত নির্ণয়, লিমিটিং বিক্রিয়ক নির্ণয়, দ্রবণে মোলার ঘনমাত্রা, অণু ও পরমাণুর সংখ্যা এবং আয়তন নির্ণয় করতে হবে।
সপ্তম অধ্যায়: রাসায়নিক বিক্রিয়া
এই অধ্যায়ের নামানুসারে বিভিন্ন বিক্রিয়া রয়েছে। ‘ক’ ও ‘খ’ অংশের জন্য একমুখী ও উভয়মুখী বিক্রিয়া, তাপোৎপাদী ও তাপহারী বিক্রিয়া, রেডক্স বিক্রিয়া, সমানুকরণ, প্রশমন, দহন, পলিমারকরণ, পানিযোজন, আর্দ্র বিশ্লেষণ, জারক, বিজারক, জারণসংখ্যা নির্ণয় জানতে হবে। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশের জন্য বিক্রিয়ার ধরন ব্যাখ্যা করতে হবে। যেমন: FeSO4 + Zn → ZnSO4 + Fe বিক্রিয়া। অ্যাসিড-ক্ষারকের বিক্রিয়া কেন নন-রেডক্স, তা বুঝতে হবে। লা-শাতেলিয়ারের সূত্র ও তার প্রয়োগ জানা জরুরি। তাপমাত্রা, চাপ ও ঘনমাত্রার প্রভাব অনুশীলন করতে হবে। মরিচা পড়ার কারণ ও প্রতিরোধ, বাস্তব জীবনের বিক্রিয়া যেমন মৌমাছি কামড়ালে চুন প্রয়োগ বা বাড়ির ছাদে বালু দেওয়া ইত্যাদি জানা দরকার।
একাদশ অধ্যায়: জৈব যৌগ
এই অধ্যায়টি জৈব যৌগভিত্তিক। ভয় না পেয়ে নির্ধারিত বিষয় আয়ত্ত করলে উত্তর দেওয়া সহজ হবে। ‘ক’ ও ‘খ’ অংশের জন্য জৈব ও অজৈব যৌগ, কার্যকরী মূলক, সমগোত্রীয় শ্রেণি, অ্যালকাইল মূলক, প্যারাফিন, অলিফিন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযুক্তি, সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন, সাধারণ সংকেত, ভিনেগার, ফরমালিন ইত্যাদি। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশের জন্য অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকোহল প্রস্তুতি, অসম্পৃক্ততার পরীক্ষা, অ্যালকিন থেকে অ্যালকোহল, জৈব অ্যাসিড উৎপাদন, অ্যালকোহল, জৈব অ্যাসিড ও অ্যালডিহাইডের পানি দ্রবণীয়তা ইত্যাদি জানতে হবে।
সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তোমরা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারবে। শুভকামনা!



