আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ভূইগড় দারুন্নুন্নাহ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ব্যাংকের ইলমনেট এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ইএমএস) যোগ দেওয়া প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইলমনেট একটি শরিয়াহ-সম্মত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একাডেমিক প্রশাসন, যোগাযোগ, ফি সংগ্রহ এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা সহজতর করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ৬ জুলাই ব্যাংকের কর্পোরেট প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফাত উল্লাহ খান এবং ভূইগড় দারুন্নুন্নাহ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ইলমনেটের উদ্দেশ্য ও সুবিধা
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফাত উল্লাহ খান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ইলমনেট চালু করেছে। এই শরিয়াহ-সম্মত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো একক সমন্বিত সিস্টেমের মাধ্যমে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীর তথ্য, ফি সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পরিচালনা করতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ইলমনেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনের জাতীয় লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, মোঃ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ আবুল হাশেমসহ ব্যাংকের অন্যান্য সিনিয়র নির্বাহী এবং ভূইগড় দারুন্নুন্নাহ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা।
ইলমনেট বাস্তবায়নের প্রভাব
ইলমনেট ইএমএস বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূইগড় দারুন্নুন্নাহ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর রেকর্ড, উপস্থিতি, নোটিশ, অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ, ফি সংগ্রহ এবং অন্যান্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালি পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও, ব্যাংকের ইসলামিক ওয়ালেট এবং বাংলা কিউআর পেমেন্ট সুবিধার মাধ্যমে নিরাপদ, সুবিধাজনক এবং নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করা হবে।
অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ইলমনেট কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালন দক্ষতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াবে না, বরং সারা দেশে একটি সমন্বিত শরিয়াহ-সম্মত ডিজিটাল শিক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আরও উল্লেখ করেন যে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা নিয়ে একটি বিস্তৃত ইসলামী শিক্ষা অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করবে।



