নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানার গুড়িহারী গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সব প্রতিকূলতা জয় করে আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। তার বাবা এসকেন্দার ও মা আবেদা বেগমের একমাত্র সন্তান সে। শৈশবে বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল তাকে হাফেজ বানাবেন। কিন্তু হাফিজিয়া মাদ্রাসায় কিছুদিন পড়ার পর বিভিন্ন কারণে বাড়ি ফিরে আসতে হয় এবং পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।
পুনরায় শিক্ষাজীবন শুরু
২০১৬ সালে গুড়িহারী গ্রামের সচেতন যুবক ও মাসুদ রানা নামের এক বড় ভাইয়ের উদ্যোগে গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পুনরায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন আব্দুল্লাহ। সেখানে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও শিক্ষকদের বাধ্য ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু শিক্ষাজীবন চলাকালেই তার বাবার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। আকস্মিক এই বিপদে মা ও ছেলের কষ্টের জীবন শুরু হয়।
আর্থিক সংকট ও পরিবারের জন্য লড়াই
সামান্য কিছু জমি চাষাবাদ করে সংসারের খরচ ও বাবার চিকিৎসার ব্যয় মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়লে, তার মা আবেদা বেগম একটি এনজিওতে ছোটখাটো চাকরি নেন। আব্দুল্লাহও পড়াশোনার পাশাপাশি মায়ের সাথে জমিতে ও ঘরের কাজে হাত বাড়ান। একপর্যায়ে চরম আর্থিক সংকটে তার পড়াশোনা আবারও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
শিক্ষকদের সহায়তায় ফিরে আসা
সে সময় আলোর পাঠশালার শিক্ষকরা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে বুঝিয়ে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনেন। শিক্ষকদের এই আন্তরিকতায় ২০২১ সালে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ২.৯৪ পেয়ে এসএসসি পাস করেন আব্দুল্লাহ।
চাকরি ও সংসারে সচ্ছলতা
এসএসসি পাসের পর তিনি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। তবে এবার আর শুধু পড়াশোনা নয়, পরিবারের স্থায়ী সচ্ছলতা ফেরাতে তিনি 'NIPRO JMI PHARMA LTD.'-এর রাজশাহী শাখায় চাকরিতে যোগ দেন। এই চাকরির পর থেকেই তাদের সংসারের দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন দূর হয় এবং পরিবারটিতে আবার সুখের দিন ফিরে আসে।
মায়ের গর্ব ও কৃতজ্ঞতা
ছেলের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা আবেদা বেগম বলেন, 'আমি আমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ছেলের সকল আবদার পূরণ করার চেষ্টা করেছি। আজ কষ্ট করে আমার ছেলেকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে পেরে আমি গর্বিত। এই যাত্রায় আলোর পাঠশালা ও প্রথম আলো ট্রাস্টের অবদান আমরা কোনোদিন ভুলব না।'
আব্দুল্লাহর কৃতজ্ঞতা
আব্দুল্লাহ আল মামুন তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, 'টাকার অভাবে যখন আমার পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছিল, তখন শিক্ষকরা পাশে না দাঁড়ালে আমি আজ এই পর্যায়ে আসতে পারতাম না। আমি আলোর পাঠশালার সকল শিক্ষক এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।'



