নেত্রকোনায় মাদ্রাসার শিক্ষিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক সোলায়মান হোসেন
নেত্রকোনায় মাদ্রাসার শিক্ষিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ইসলামী ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি মাদ্রাসার এক শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে মো. সোলায়মান হোসেন (৩৫) নামে অপর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক শাহ আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২২ জুন ওই শিক্ষিকা লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিচয় ও অতীত ইতিহাস

অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেন নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি জেলা আওয়ামী ওলামা লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলেও জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ও সোলায়মান হোসেন মোহনগঞ্জে ইসলামী ফাউন্ডেশন পরিচালিত একই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। সেই সময় অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন কথাবার্তা বলতেন। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনকে জানালে একপর্যায়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে আটক করেন। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান এবং বদলি হয়ে আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় যোগ দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাণনাশের হুমকি ও পূর্ববর্তী অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষিকার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এসব বিষয়ে এর আগেও জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা। সর্বশেষ গত ২১ জুন জেলা কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ওই শিক্ষিকার পথরোধ করে অশালীন আচরণের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরদিন তিনি জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তের বক্তব্য না পাওয়া ও তদন্তের প্রতিশ্রুতি

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সোলায়মান হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। সড়ক দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছি। কিছুটা সুস্থ হলে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”