রাজশাহীর গ্রামীণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি শহীদ মিনারে ভাষা দিবস উদযাপন
রাজশাহীর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তৈরি শহীদ মিনারে ভাষা দিবস উদযাপন

রাজশাহীর গ্রামীণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি শহীদ মিনারে ভাষা দিবস উদযাপন

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং গ্রামে অবস্থিত প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছে।

সপ্তাহজুড়ে প্রস্তুতি ও সৃজনশীল উদ্যোগ

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর জানান, দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে। বিদ্যালয়ের মাটির ভবনের দেয়াল লেপে-পুছে ঝকঝকে তকতকে করে তোলা হয় এবং শিক্ষার্থীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে আলপনা আঁকে।

এছাড়াও, প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে মাটি এনে শহীদ মিনারের বেদী তৈরি করা হয় এবং বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ফুলের ডালা তৈরি করে এবং শহীদ মিনারটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলে।

প্রভাতফেরি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন

২১ ফেব্রুয়ারি সকালবেলা, শিক্ষার্থীরা হাতে হাতে বুনো ফুল নিয়ে বরেন্দ্রভূমির উঁচুনিচু জমির আলপথ বেয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হয়। গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তারা প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় এবং কোল ও বাংলা ভাষায় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গান গেয়ে হাঁটতে থাকে।

প্রভাতফেরির পর, শিক্ষার্থীরা নিজেদের বানানো শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে এবং স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা র‍্যালির আয়োজন করে।

আলোচনা সভা ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়া

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্কাউটস, রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক উপকমিশনার (সমাজ উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য) মো. হেলাল উদ্দিন শেখ নাসিম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য রুমালি হাসদা, প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, সহকারী প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস, প্রাক্তন শিক্ষার্থী সায়েমা আক্তার, তাজন মুরমু ও শিমন্ত টুডু।

ছাত্রী মারুফা খাতুন ও লিজা খাতুন ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি করে। রুমালি হাঁসদা বলেন, 'পতিবছরই হামি এ অনুষ্ঠানে আসি। সব অনুষ্ঠান থাইক্যা হামার এ অনুষ্ঠানটাকে আলাদা মনে হয়। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। হামারঘে কোল ভাষায় গান হয়। দেখে মন ভইর‍্যা যায়।'

সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, 'শিশুরা হাতে হাতে নানা জাতের ফুল নিয়ে প্রভাতফেরিতে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অংশ নেয়। শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়া, ধৈর্য্যসহকারে আলোচনা সভায় অংশ নেয়া; এমন দৃশ্য দেখে খুবই অভিভূত হয়েছি। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এমন আয়োজন দেশের আর কোথাও খুব বেশি চোখে পড়ে না। শিক্ষার্থীদের এমন দেশপ্রেম আমাদের আশা দেখায়।'

অনুষ্ঠানে গ্রামের নারী-পুরুষ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ অতিথিরা অংশ নেন, যা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে তুলে ধরে।