শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না। এমনকি কাউকে দুর্নীতি করতেও দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার অঙ্গীকার

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা নিজেরা দুর্নীতিতে জড়াবো না এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারিতে থাকবো। দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ শুধু আন্দোলনে নয়, কর্মক্ষেত্রেও দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুর্নীতিমুক্ত, মানসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ববি হাজ্জাজ।

শহিদ দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যময় দিন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং বাঙালির মৌলিক অধিকার আদায়ের প্রতীক

ভাষা মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও মৌলিক অধিকার। একইসঙ্গে নিজের পরিবার, অনুভূতি ও চেতনার সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক গভীর। সেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালিকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, ত্যাগ ও সংগ্রাম ছাড়া কোনো জাতি অধিকার অর্জন করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়েও অধিকার আদায়ে আন্দোলন ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি মূল বিষয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা হলো রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে উঁচু ভবন দাঁড় করে লাভ নেই। তাই শিক্ষার অবকাঠামো মজবুত করাই সবার দায়িত্ব। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। সেটি হচ্ছে— ‘কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিস্টেন্সি’।

  • পাঠ্যক্রম ভালো হতে হবে
  • শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে
  • সারা দেশে শিক্ষার মানে সামঞ্জস্য থাকতে হবে

বর্তমানে দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি শিক্ষা ও বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষাধারা রয়েছে। এসব ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচিত সরকারের প্রাপ্তি

নির্বাচিত সরকার নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পেয়েছেন এটাই বড় প্রাপ্তি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আলোচনা সভায় শিক্ষা খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণা শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার দৃঢ় অবস্থান শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এই প্রতিশ্রুতি জাতীয় উন্নয়নের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।