বাংলাদেশের ফুটবলের উজ্জ্বল তারকা সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির বিশ্বমঞ্চকে দেখেন অভিজ্ঞতার আলোয়। মাঠের ঘাসের গন্ধ, গ্যালারির গর্জন আর প্রতিযোগিতার চাপ খুব কাছ থেকে দেখা এই ফুটবল ব্যক্তিত্বের বিশ্লেষণে ঘুরেফিরে উঠে আসে পাঁচ পরাশক্তির নাম: আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড।
সাব্বির বলেন, ‘আমি ব্রাজিলের সমর্থক, এটা সবাই জানে। কিন্তু বিশ্বকাপ বিশ্লেষণ করতে গেলে আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। আমার মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড এবং ব্রাজিল।’
ফ্রান্স: সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ দল
সাব্বিরের মতে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ দল ফ্রান্স। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের প্রতিটি পজিশনে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। গোলবারের নিচে মাইক মেনিয়াঁ, রক্ষণভাগে উইলিয়াম সালিবা, জুল কুন্দে ও থিও হার্নান্দেজ, মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনি, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা এবং আদ্রিয়েন রাবিও—সব মিলিয়ে দলটি অসাধারণ ভারসাম্যপূর্ণ।
আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। তার সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মার্কুস থুরাম, ব্র্যাডলি বারকোলা কিংবা র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি থাকায় ফ্রান্স সবসময়ই ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ। ফ্রান্সের অন্যতম বড় সম্পদ কোচ দিদিয়ের দেশঁ। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা এবং ২০২২ সালে দলকে আবার ফাইনালে তুলে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
আর্জেন্টিনা: বর্তমান চ্যাম্পিয়ন
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখেন সাব্বির। লিওনেল স্কালোনির অধীনে তারা একটি দুর্দান্ত দলে পরিণত হয়েছে। গোলবারে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, আর সামনে লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ—সব মিলিয়ে দলটি অত্যন্ত পরিপক্ব। সবচেয়ে বড় কথা, তারা জানে কীভাবে বড় ম্যাচ জিততে হয়।
স্পেন: আধুনিক ও গতিময়
সাব্বির স্পেনকেও খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দলটি আধুনিক ও গতিময় ফুটবল খেলছে। পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, নিকো উইলিয়ামস এবং লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণ তারকারা স্পেনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দল হিসেবে তাদের বোঝাপড়া এবং বল দখলে রাখার সক্ষমতা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ইংল্যান্ড: শক্তিশালী অবস্থানে
ইংল্যান্ড শিরোপার অন্যতম দাবিদার। জুড বেলিংহ্যামের নেতৃত্ব, ফিল ফোডেনের সৃজনশীলতা, বুকায়ো সাকার গতি, ডেকলান রাইসের নিয়ন্ত্রণ এবং হ্যারি কেইনের অসাধারণ গোল করার দক্ষতা ইংল্যান্ডকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। রক্ষণভাগে জন স্টোনস ও অন্যান্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও দলটিকে স্থিতিশীলতা দিয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নকআউট পর্বের মানসিক চাপ সামলানো। এটা সামলাতে পারলে সহজেই ফাইনালে পৌঁছানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
ব্রাজিল: আশাবাদ ও প্রতিভা
ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে সাব্বিরের আলাদা আশাবাদ রয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারাইস, জোয়াও গোমেস এবং আলিসনের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্রাজিল এখনও বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান দল। নতুন কোচের অধীনে তারা রক্ষণ ও মাঝমাঠে আরও ভারসাম্য আনতে পারে, তাহলে সাম্বার দেশ আবারও শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়ে উঠবে।
সাব্বিরের বিশ্বাস, এই পাঁচ দলের মধ্য থেকেই ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন বের হয়ে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে বিশ্বকাপের সৌন্দর্যই হলো, এখানে শেষ কথা বলে মাঠের পারফরম্যান্স, নাম কিংবা কাগজের হিসাব নয়।



