শিক্ষামন্ত্রী মিলনের অঙ্গীকার: প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল বন্ধ, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রীর অঙ্গীকার: প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা

শিক্ষামন্ত্রী মিলনের অঙ্গীকার: প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল বন্ধ, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা

নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম ইহসানুল হক মিলন দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে, তার মেয়াদে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের মতো অনিয়ম ফিরে আসবে না। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমার পূর্ববর্তী মেয়াদে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সমস্যাগুলো আবার ফিরে আসবে না।”

শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনা

মন্ত্রী বিশ্বমানের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করব, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও ইংরেজি দক্ষতার ওপর জোর দেব এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা মেটাতে ন্যানোটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সের মতো বিষয়গুলো চালু করব।”

তিনি যোগ করেন যে শিক্ষার পর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ এবং এই লক্ষ্য সামনে রেখেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মিলন বলেন, “পিছিয়ে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগোতে পারি না। বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে এবং আমাদের শিক্ষা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তি-চালিত দক্ষতা ও আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবস্থা রূপান্তরের কাজ করব।”

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের জবাব

মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা অতীত সরকারগুলোর কাজের জন্য তাদের জবাবদিহি করব না। তবে পূর্ববর্তী মেয়াদে কোনো দুর্নীতি ছিল না এবং এবারও থাকবে না। এমপিও অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতির অভিযোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে এবং আপডেট দেওয়া হবে।”

বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

রাষ্ট্রমন্ত্রী হাজ্জাজের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর পর্যবেক্ষণকৃত বৈশ্বিক মান অনুসরণ করে পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করা হবে। “বিশেষ করে ইতিহাস বইয়ের জন্য একাধিক ইতিহাসবিদের মতামত বিবেচনা করা হবে যাতে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত হয়। সরকারের ফোকাস অতীতের ভুল নিয়ে না থেকে ভবিষ্যতে সঠিকভাবে কাজ করার ওপর।”

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য শিক্ষাখাতে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।