শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে শহরে চলে আসা শিক্ষকদের পুনরায় গ্রামে পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় অডিটরিয়ামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষক সংকট ও মিড ডে মিল
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৬০ হাজার শিক্ষক সংকট রয়েছে। এভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই পর্যায়ক্রমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আগামী জুলাই থেকে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'মিড ডে মিল' চালু হবে। এই কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
ডিজিটাল নকল ও গুজব প্রতিরোধ
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সনাতন পদ্ধতির নকল এখন নেই, তবে একটি চক্র 'ডিজিটাল নকল' ও সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা করছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফেসবুকে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ালেই দ্রুত আইনের আওতায় নেওয়া হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে সাইবার ক্রাইম আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়া নজরদারি
শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ও অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে বই বা কাগজ পাওয়া গেলে তার দায় কক্ষ পরিদর্শককে নিতে হবে। শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে 'দেখিনি' বলতে পারবেন না।
মাদ্রাসা বোর্ডের মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন
মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বোর্ডগুলো শিক্ষকদের ৫০০ করে খাতা দেয়, কিন্তু শিক্ষকেরা কিভাবে মূল্যায়ন করছেন তা বোর্ড তদারকি করে না। তিনি খাতা দেখার ঢিলেঢালা পদ্ধতি বদলানোর কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ, কেসিসি প্রশাসক, কেডিএ চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা ব্যবস্থায় জড়িত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খুলনার ১০ জেলার কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশ নেন।



