ব্যথায় কাতর হলে রাসুল (সা.)-এর শেখানো এই দোয়া পড়ুন
ব্যথায় কাতর হলে রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়ুন

মানুষের জীবন ব্যথা-বেদনা, অসুস্থতা ও শারীরিক কষ্ট থেকে মুক্ত নয়। কখনো অতিরিক্ত পরিশ্রম, কখনো আঘাত, আবার কখনো দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে বা শুয়ে থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা অনুভূত হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এসব সমস্যার সমাধানে নানা পদ্ধতি ও ওষুধের কথা বললেও একজন মুমিন জানেন, প্রকৃত শিফা একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছ থেকেই আসে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মহান রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া ও আমল অনুসরণ করা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোগ-ব্যথার সময় আল্লাহর ওপর ভরসা

ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, রোগ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু হৃদয়ের ভরসা রাখতে হবে আল্লাহর ওপর। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।’ (সুরা আশ-শু‘আরা: আয়াত ৮০) এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, চিকিৎসা ও ওষুধ কেবল মাধ্যম; প্রকৃত আরোগ্যদাতা একমাত্র মহান আল্লাহ।

ব্যথা দূর করার জন্য রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া

প্রখ্যাত সাহাবি উসমান ইবনে আবুল আস আস-সাকাফি (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একবার তীব্র শারীরিক ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল শিক্ষা দেন। তিনি বলেন— ‘তুমি তোমার ডান হাত ব্যথার স্থানে রাখবে এবং সাতবার এই দোয়া পাঠ করবে।’ (ইবনে মাজাহ ৩৫২২)

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দোয়াটি হলো— أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ উচ্চারণ: ‘আউজু বি-ইয্‌যাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আঝিদু ওয়া উহাজিরু।’ অর্থ: ‘আমি আল্লাহর মহিমা ও তার পরম ক্ষমতার আশ্রয় গ্রহণ করছি, আমি যে ব্যথা অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি তার অনিষ্ট থেকে।’ (ইবনে মাজাহ ৩৫২২, মুসলিম ২২০২)

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আমলটি কীভাবে করবেন?

  • ব্যথাযুক্ত স্থানে ডান হাত রাখুন।
  • ‘বিসমিল্লাহ’ বলুন।
  • এরপর সাতবার উল্লিখিত দোয়াটি পাঠ করুন।
  • আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে শিফা কামনা করুন।

এ আমল শুধু শারীরিক ব্যথার জন্য নয়, বরং আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা ও বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।

অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধারণের শিক্ষা

ইসলাম অসুস্থতাকে কেবল কষ্ট হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ ‘মুসলমানের ওপর যে ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, কষ্ট, দুঃখ বা যন্ত্রণা আসে, এমনকি কাঁটার খোঁচাও লাগে—এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।’ (বুখারি ৫৬৪১, মুসলিম ২৫৭৩)

চিকিৎসা গ্রহণও সুন্নাহ

দোয়া ও আমলের পাশাপাশি চিকিৎসা গ্রহণ করাও ইসলামের নির্দেশনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— تَدَاوَوْا عِبَادَ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ دَوَاءً ‘হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার জন্য তিনি প্রতিকারও সৃষ্টি করেননি।’ (আবু দাউদ ৩৮৫৫, তিরমিজি ২০৩৮)

শারীরিক ব্যথা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে একজন মুমিনের জন্য এটি হতাশার কারণ নয়; বরং আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার একটি সুযোগ। চিকিৎসা গ্রহণ, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই দোয়া নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, সকল রোগের শিফা একমাত্র আল্লাহর কাছেই। তাই বিপদ-আপদ ও ব্যথা-বেদনার মুহূর্তে তারই দরবারে বেশি বেশি দোয়া করা এবং ধৈর্য ধারণ করাই একজন মুমিনের সর্বোত্তম পথ।