সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন এবং কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে চার স্তরের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। রোববার (২১ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জাতীয় কমিটির গঠন
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃসিটি করপোরেশন পর্যায়ের শিক্ষক বদলির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সভাপতি করে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিভাগীয় কমিটি
একইভাবে, বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত বিভাগীয় কমিটি একই বিভাগের মধ্যে সিটি করপোরেশনের বাইরে শিক্ষক বদলির আবেদন পর্যালোচনা করবে।
জেলা ও উপজেলা কমিটি
জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে গঠিত জেলা কমিটি নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন এবং একই জেলার মধ্যে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে। নবনিযুক্ত শিক্ষকদের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে পদায়নের দায়িত্বও এই কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা বা থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে গঠিত উপজেলা বা থানা কমিটি একই উপজেলা বা থানার মধ্যে শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে।
সভা ও প্রতিবেদন
চার স্তরের প্রতিটি কমিটিকেই প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করতে হবে। পাশাপাশি তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অগ্রাধিকার পদায়ন
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে আগে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বার্থে জারি করা এই নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।



