জামালপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট: শিক্ষার্থীদের রোদে মাঠে পাঠদান
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৩নং চেচিয়াবাধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মারাত্মক শ্রেণিকক্ষ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানটিতে মাত্র তিনটি ব্যবহারযোগ্য কক্ষ থাকায়, প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রায়ই খোলা মাঠ ও বারান্দায় বসে পাঠদান গ্রহণ করতে হচ্ছে। রোদ ও গরমের মধ্যে এই অস্বাভাবিক পরিবেশে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা ও সমস্যার গভীরতা
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ছয়জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তবে ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা মাত্র তিনটি। এর মধ্যে একটি কক্ষ শিক্ষকরা নিজেদের কাজে ব্যবহার করছেন। ফলে বাকি দুটি কক্ষে ভাগ করে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
কক্ষ সংকটের তীব্রতার কারণে অনেক সময় বারান্দা ও বিদ্যালয়ের খোলা মাঠেই পাঠদান পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শ্রেণিকক্ষ কম থাকায় তাদের প্রায়ই মাঠে বা বারান্দায় বসে ক্লাস করতে হয়। রোদে গরমে প্রচণ্ড কষ্ট হয়, আবার কখনও বেশি রোদ উঠলে অন্য শ্রেণির সঙ্গে গাদাগাদি করে বসতে হয়। এতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না বলে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প ও বিলম্বের কারণ
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির অর্থায়নে ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে এই তিনতলা ভিত্তি বিশিষ্ট ভবনের প্রথম ধাপের কাজ পায় তারাকান্দির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মালেকা এন্টারপ্রাইজ।
প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন বলেন, "নতুন ভবনের জন্য পুরোনো কক্ষ ভেঙে ফেলায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা স্বস্তি পাবেন।"
ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মালেকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লিটন হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। মাঝখানে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল, তবে দ্রুত কাজ শেষ করে ভবন হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তমাল জানান, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষ সংকট শুধু এই বিদ্যালয়েই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
