রাজধানীর মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৮৩টি ল্যাপটপ গায়েব হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুক্রবার (১ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অধিদপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
মামলা দায়ের ও তদন্ত
ঘটনার পরদিন শনিবার (২ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা বোরকা পরা এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আনোয়ারুল হঠাৎ দ্বিতীয় তলায় আগুনের ধোঁয়া দেখতে পান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আইয়ুব আলীকে খবর দেন। আইয়ুব আলী বিষয়টি অফিস সহকারী এমাম হোসেনকে মোবাইলে জানালে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে বোরকা পরা এক ব্যক্তি ভবনের দ্বিতীয় তলার অস্থায়ী স্টোররুমের তালা কৌশলে খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ওই ব্যক্তি মোট পাঁচবার কক্ষটিতে প্রবেশ করে এবং কিছু মালামাল ও ল্যাপটপ নিয়ে যায়। চলে যাওয়ার সময় সে কক্ষটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
তাৎক্ষণিক যাচাইয়ে দেখা যায়, মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০টি ভালো অবস্থায় রয়েছে, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি ৮৩টি ল্যাপটপের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার জানান, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আজ রাতে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।



