প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের প্রায় এক কোটি সাত লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য ধাপে ধাপে ড্রেস (ইউনিফর্ম) ও জুতা সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত পোশাক ও জুতা বিতরণের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি
তিনি বলেন, চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যেই পাইলট কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে চায় সরকার। বিশেষ করে সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তির আগেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্পখাতের সহযোগিতা
সভায় ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে সরকারের উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তাদের সহযোগিতায় পাইলট প্রকল্পের জন্য চার লাখেরও বেশি ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে দেশের জুতা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সরকার।
প্রথম শ্রেণির জন্য বিশেষ উদ্যোগ
তিনি আরও বলেন, পাইলট পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সাদা রঙের ভেলক্রোযুক্ত (ফিতাবিহীন) কেডস সরবরাহের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। যেহেতু প্রথম শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স প্রায় ছয় বছর, তাই উপযুক্ত সাইজ, ছেলে-মেয়েদের চাহিদা এবং সরবরাহযোগ্য সংখ্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্ভাব্য অনুদানের পরিমাণ, সরবরাহের সময়সীমা এবং উৎপাদন ব্যয়ের কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে জুতা সরবরাহের জন্য সরকার ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দেশের জুতা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



