নারায়ণগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ, ক্ষুব্ধ অভিভাবক-শিক্ষার্থী
নারায়ণগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ

নারায়ণগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রে গত বছরের সিলেবাসের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে দেড় ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার ৪৯৮ নম্বর কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

জানা যায়, কেন্দ্রটিতে মোট ৭৬৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৬০ জন উপস্থিত ছিল। পরীক্ষা শুরু হলে সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় দুটি হলের ১৭৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিষয়টি দায়িত্বরত ব্যক্তিদের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রের দুটি হলের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ওই হলের ১৭৭ পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের ঢাকা বোর্ডের অতিরিক্ত সরবরাহ করা প্রশ্নপত্র দিয়ে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

এদিকে এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিনহা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানায়, তাদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। পরে ভুল প্রশ্নের বিষয়টি নজরে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। তারা জানান, এমন পরীক্ষায় এ ধরনের ভুল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যাদের অবহেলার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ বিষয়ে সাইমন হোসেন নামে একজন অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মতিন সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হলে এর দায়ভার কে নেবে। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন্দ্র সচিব ও ইউএনওর বক্তব্য

কেন্দ্রসচিব মো. আবদুল মতিন সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষার্থীদের যে সময়টা লস হয়েছিল, ওইটুকু সময় অতিরিক্ত দিয়ে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমাদের এমসিকিউ পরীক্ষা ঠিক হয়েছে, তবে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে এ ভুল হয়েছে। এটা আমাদের কেন্দ্রের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা আছেন, তাদের সবার ভুল। পরে পরীক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা বোর্ডে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘একটি কেন্দ্রের দুটি হলে ভুলবশত পরীক্ষার্থীদের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। পরে ছাত্রছাত্রীদের যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য যে সময়টা নষ্ট হয়েছিল, ওই সময় অতিরিক্ত দিয়ে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিষয়টি ঢাকা বোর্ডকেও মৌখিকভাবে জানান হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।’

এই ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থায় নজরদারির গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।