নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষায় গত বছরের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় উত্তাল পরিস্থিতি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রে গত বছরের সিলেবাসের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে, যা পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর ধরা পড়ে। ১৭৭ জন শিক্ষার্থীকে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলেও, এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরু হলে সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় দুটি হলের ১৭৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিষয়টি দায়িত্বরত ব্যক্তিদের নজরে আসে, এবং তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রের দুটি হলের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ওই হলের ১৭৭ পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের ঢাকা বোর্ডের অতিরিক্ত সরবরাহ করা প্রশ্নপত্র দিয়ে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। কেন্দ্রটিতে মোট ৭৬৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৭৬০ জন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
সিনহা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানান, তাদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়েছিল, যা পরে ভুল হিসেবে নজরে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে, এবং পরীক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়।’ রাবেয়া বসরি নামের এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কেন্দ্রসচিবের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ অভিভাবকদের ভাষ্য, এমন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় এ ধরনের ভুল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য
কেন্দ্রসচিব মো. আবদুল মতিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষার্থীদের যে সময়টা লস হয়েছিল, ওইটুকু সময় অতিরিক্ত দিয়ে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমাদের এমসিকিউ পরীক্ষা ঠিক হয়েছে, তবে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে এ ভুল হয়েছে। এটা আমাদের কেন্দ্রের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত যাঁরা আছেন, তাঁদের সবার ভুল।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, এবং শিক্ষা বোর্ডে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘একটি কেন্দ্রের দুটি হলে ভুলবশত পরীক্ষার্থীদের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। পরে ছাত্রছাত্রীদের যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য যে সময়টা নষ্ট হয়েছিল, ওই সময় অতিরিক্ত দিয়ে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঢাকা বোর্ডকেও মৌখিকভাবে জানান হয়েছে।’
ঘটনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এ ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থায় নজরদারির গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলেছে। অভিভাবকরা দাবি করেছেন যে, এমন বিভ্রাটের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ভুল স্বীকার করা সত্ত্বেও, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন চ্যালেঞ্জ হলো, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।



