প্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থী, বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় নির্মিতি অংশের একটি প্রশ্ন থাকবে সারাংশ/সারমর্ম/সারসংক্ষেপ অথবা ভাবসম্প্রসারণ–এর ওপর। নম্বর থাকবে ১০। সারাংশ/সারমর্ম/সারসংক্ষেপ থেকে একটি অথবা ভাবসম্প্রসারণ থেকে একটি করে মোট দুটি প্রশ্ন থাকবে, এ থেকে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আজ সারাংশ, সারমর্ম ও ভাবসম্প্রসারণের নিয়ম–কানুন নিয়ে আলোচনা করা হলো।
সারাংশ ও সারমর্ম
গদ্য রচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম হলো সারাংশ। কাব্য ভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাব সংক্ষেপে লেখাকে সারমর্ম বলে। সারাংশ ও সারমর্ম লেখায় বিশেষ দক্ষতা থাকলে এ প্রশ্নের উত্তর করাই ভালো। কারণ, খুব অল্প সময়ে ১০ নম্বরের একটি প্রশ্নের উত্তর করা যায়। বাকি সময়টা অন্য প্রশ্নের উত্তর লেখায়, বিশেষ করে প্রবন্ধ লেখার সময় ব্যবহার করা যায়। তবে সারাংশ ও সারমর্ম লেখায় যথাযথ ধারণা না থাকলে হুট করে এর উত্তর করতে যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ, সারাংশ ও সারমর্ম লেখার বেশ কিছু নিয়মকানুন বা পদ্ধতি রয়েছে।
নিয়মকানুন জেনে নিন—
- সারাংশ ও সারমর্ম লিখনের উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি উদ্ধৃতি পড়ে তার মূল সুরটি ধরতে পারা। কম কথায়, কম শব্দ ব্যবহার করে সে মূলকথাটি তুলে ধরা। কাজেই এখানে ব্যাপক বা বিস্তৃত কোনো কিছু লেখার কোনো সুযোগ নেই। তাই সারাংশ ও সারমর্মের আয়তন দুই বা তিন বাক্যের বেশি হবে না। এদের মধ্যে প্রথম বাক্যটিতে সাধারণত কোনো দার্শনিক তত্ত্ব বা সত্য প্রকাশ পায় এবং অবশিষ্ট বাক্য প্রথম বাক্যের সহযোগী হিসেবে থাকে।
- সারাংশ ও সারমর্মে সব প্রকার বাহুল্য বর্জন করতে হবে। অর্থাৎ মূল উদ্ধৃতির সব উদাহরণ, উপমা, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
- কোনোক্রমে একই ভাবের পুনরাবৃত্তি করা যায় না। নতুন কোনো ভাবের অবতারণাও করা যায় না।
- সারাংশ ও সারমর্ম সাধারণত ভাববাচ্যে বা পরোক্ষ ভঙ্গিতে লিখতে হয়। সরাসরি প্রত্যক্ষ ভঙ্গিতে উত্তম পুরুষ ব্যবহার করে লেখা যায় না।
- সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না, ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
- সারাংশ ও সারমর্ম লেখার সময় নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মতপ্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।
ভাবসম্প্রসারণ
ভাবসম্প্রসারণ থাকবে সারাংশ/সারমর্ম/সারসংক্ষেপের বিকল্প প্রশ্ন হিসেবে। চিন্তাশীল কবি ও সাহিত্যিকদের কোনো কোনো বক্তব্যের মধ্যে গভীর কোনো ভাব, দর্শন বা তত্ত্ব নিহিত থাকে। ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ ভাবসত্যকে সহজবোধ্য করে তোলার নামই ভাবসম্প্রসারণ। ভাবসম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রেও কতগুলো নিয়ম মেনে চলতে হয়।
নিয়মকানুন জেনে নিন—
- যে উক্তি বা অংশের ভাবসম্প্রসারণ করতে হবে, তা ভালোভাবে পড়ে মূলভাবটি উদ্ঘাটন করতে হবে।
- ভাবসম্প্রসারণকে প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত করা যায়, যথা—প্রথম অংশে ভাবের অর্থ, দ্বিতীয় অংশে ভাবের ব্যাখ্যা এবং তৃতীয় অংশে ভাবের তাৎপর্য। তাই ভাবসম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিনটি অনুচ্ছেদ করতে হয়। তবে প্রয়োজনে আরও বেশি অনুচ্ছেদ হতে পারে।
- যুক্তিতর্কের মাধ্যমে ভাবটিকে বিশ্লেষণ করতে হয়। অর্থাৎ প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দিতে হয়, বিভিন্ন বিষয় বা প্রসঙ্গের সঙ্গে তুলনা করতে হয়। মূলভাবটি কোনো রূপক বা প্রতীকের আড়ালে থাকলে, তা স্পষ্ট করতে হয়। প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত কোনো উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে।
- ভাবসম্প্রসারণের বাক্যগুলো যাতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
- ভাবসম্প্রসারণে আলাদা কোনো শিরোনাম দরকার হয় না এবং প্রদত্ত অংশের রচয়িতার নাম উল্লেখ করতে হয় না।
- উত্তরের কলেবরে কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। ভাবটি যথার্থভাবে সম্প্রসারিত হওয়া মাত্রই উত্তর শেষ করতে হয়। তবে ২৫০ থেকে ৩০০ শব্দের মধ্যে বা আড়াই থেকে তিন পৃষ্ঠার মধ্যে একটি ভালো মানের ভাবসম্প্রসারণ লেখা যায়।
- ভাবসম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব, মন্তব্য—এই শিরোনামগুলো লেখার প্রয়োজন নেই।
মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সহকারী অধ্যাপক, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা।



