ফরিদপুর শহরে আওয়ামী লীগের ব্যানার ও মশাল নিয়ে মশালমিছিলের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে টেপাখোলা মাছবাজার ও মাটিয়া কবরস্থান এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা
আটক দুজন হলেন কমলাপুর মাটিয়া কবরস্থান এলাকার ব্যবসায়ী খসরু আলম খান (৪২) ও টেপাখোলা বিন্দুপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আনন্দ ফকির (৪৮)। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল দাবি করেন, খসরু আলম খান শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ঘটনার বিবরণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাতটার দিকে টেপাখোলা মাছবাজারের একটি আড়ত থেকে আনন্দ ফকিরকে আটক করা হয়। পরে তার মুঠোফোন তল্লাশি করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খসরু আলম খানকে আটক করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহরিয়ার শিথিল ফেসবুকে একটি পোস্টে দাবি করেন, তারা ‘আওয়ামী লীগের আগুন–সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী’কে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় জনগণ ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেয়। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রোববার রাতের মশালমিছিলের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান ওসি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যাখ্যা
শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশকে না জানিয়ে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করায় আইন লঙ্ঘিত হয়নি। আমরা তাদের কোনো পিটুনি দিইনি, সম্মানের সঙ্গে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। দুষ্কৃতিকারীদের ধরিয়ে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
উল্লেখ্য, রোববার রাতে ফরিদপুর শহরে আওয়ামী লীগের ব্যানার ও মশাল নিয়ে মশালমিছিলের ঘটনায় পুলিশ একটি ব্যানার ও সাতটি মশাল জব্দ করে।



