এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদে ৫৩ হাজার আবেদন, ১৮ এপ্রিল পরীক্ষার সম্ভাবনা
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে এই সম্মেলন শুরু হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনকারীদের সংখ্যা ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে মোট ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩৫১ এবং নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭১৮। এই বিশাল সংখ্যক আবেদন নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি শিক্ষক সমাজের আগ্রহ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে প্রতিফলিত করে।
পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উল্লেখ করেন, ‘এনটিআরসিএ এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। এই প্রথম প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ দিচ্ছে। এখানে শতভাগ নিরপেক্ষ নিয়োগ হয়, এটি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’ তিনি আরও জানান, পরীক্ষা গ্রহণের পরবর্তী প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে এবং যেসব নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান, তা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ২৫ মার্চ ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যার লক্ষ্য ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ দেওয়া।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সিলেবাস পরিবর্তন
চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে শিক্ষকদের গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য সিলেবাসেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপ শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী পরিকল্পনা ও সময়সীমা
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রবেশ পর্যায়ের শূন্য পদের তালিকা গ্রহণ ১২ এপ্রিল শেষ হবে। এরপর দ্রুতই ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, যা ভবিষ্যত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
এনটিআরসিএর এই উদ্যোগ বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।



