শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাশ চালুর সিদ্ধান্ত এই সপ্তাহে: মন্ত্রী
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাশ চালুর বিষয়ে আজ রোববার (৫ এপ্রিল) কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিদ্ধান্তের সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাশ চালুর বিষয়ে এই সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই আমরা স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করব। এরপর বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
আজকের কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিএনসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের সুবিধা-অসুবিধা ও পরামর্শগুলো শোনা হয়েছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
পূর্ববর্তী আলোচনা ও প্রেক্ষাপট
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদের সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রোববার (৫ এপ্রিল) জানা যাবে।
রমজান ও ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন উপলক্ষে প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত ২৯ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটে পড়েছে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রস্তাব ও আলোচনার অগ্রগতি
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তাহে এক দিন অনলাইন ক্লাশের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে তখন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার প্রয়োজন আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার থেকে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে।
এসব আলোচনা ও প্রস্তাবনার মধ্য দিয়ে শিক্ষা খাতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোচ্ছে সরকার। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সুষ্ঠু পাঠদান নিশ্চিত করাই এ প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য।



