মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মাদ্রাসাগুলোতে স্কুলের তুলনায় অনেক ভালো লেখাপড়া হয়’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘বিকৃত’ভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এমএ খায়েরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ জুলাই ২০২৬ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন এবং অভিভাবকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নত না হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিভিন্ন বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।’ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয় যে মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা, কোনো শিক্ষাব্যবস্থাকে অপরটির সঙ্গে তুলনা করে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা নয়।
শিরোনামের সমালোচনা
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাদ্রাসাগুলোতে স্কুলের চেয়ে/তুলনায় অনেক ভালো লেখাপড়া হয়: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী’ শিরোনামের ওই সংবাদটি মন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত শিরোনামটি তার প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বক্তব্যের অর্থকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য বিকৃত হয়েছে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের সারাংশ
বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর সেদিনের বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তির ওপর। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসন এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’ তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবার জন্য সমন্বিত কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এসবের একমাত্র উদ্দেশ্য শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা।
শিক্ষকদের সতর্কবার্তা
মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘সরকার কর্তৃক প্রদত্ত এত সুযোগ-সুবিধার পরও যদি শিক্ষার মানোন্নয়ন না হয়, কোনো শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল না করে, ঝরে পড়ে বা মাদকাসক্ত হয়, তাহলে এর দায়-দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে।’ তিনি প্রতি সপ্তাহে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার মানবিষয়ক পর্যালোচনা সভা এবং প্রতি মাসে অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষার সার্বিক অবস্থা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা করে ফলাফল তাকে জানানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মন্ত্রী নিজে প্রতি তিন মাসে একবার তার নির্বাচনি এলাকা বাসাইল-সখিপুরের সব প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে জানান।
যুগান্তরের বক্তব্য
প্রতিবেদনের জবাবে যুগান্তর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘মাদ্রাসাগুলোতে স্কুলের তুলনায় অনেক ভালো লেখাপড়া হয়’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরটি প্রতিবেদকের নিজস্ব বক্তব্য বা মনগড়া নয়। মন্ত্রী এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে যুগান্তরের কাছে ভিডিও ক্লিপ সংরক্ষিত রয়েছে।



