মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিলে উদ্বেগ বিরোধী দলীয় নেতার
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিলে উদ্বেগ বিরোধী দলীয় নেতার

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নতুন বিল নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ বিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করার প্রক্রিয়া শুরু হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

সংসদে বিল উত্থাপন ও বিরোধী নেতার বক্তব্য

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম দিনে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনের ওপর বিলটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। বর্তমানে দেশে আরও কয়েকটি মেডিক্যাল থাকলেও সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায় মূল প্রতিষ্ঠানটিকে যদি প্রফিট ও নন-প্রফিট কনসার্নে ভাগ করে শেয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসার ব্যয় বাড়বে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অসুস্থ প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

তিনি বলেন, চলতি অধিবেশনে বাজেট পাসের সময় জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সবাই সমর্থন করেছে। কিন্তু এই বিলের চেতনা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানে কোনও কোম্পানি বিনিয়োগ করে মুনাফা করতে চাইলে ‘আনহেলদি কম্পিটিশন’ বা অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। এতে সাধারণ মানুষের চেয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লাভবান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিলটি কেবল উপস্থাপিত হয়েছে। পরে এটি বিস্তারিত বিবেচনার জন্য এলে বিরোধীদলীয় নেতাকে এ বিষয়ে আলোচনা করার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কমিটির বৈঠকে নোটিশ না দেওয়ার অভিযোগ

এদিকে বিলটি উত্থাপনের পর বিশেষ কমিটির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে যথাসময়ে সভার নোটিশ দেওয়া হয়নি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টায় কমিটির বৈঠক ছিল। অথচ কমিটির সভাপতির পিএস তাকে ফোন করেন সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে। পরে তিনি দেখেন, সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল। মাত্র ৪০ মিনিট আগে এভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের খবর দিলে উপস্থিত হওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়।

স্পিকারের নির্দেশ

এ অভিযোগের পর স্পিকার অসন্তোষ প্রকাশ করে বিশেষ কমিটির সভাপতিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সময়মতো নোটিশ না দেওয়ার অভিযোগ সংসদের ভেতরে-বাইরে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। তাই ভবিষ্যতে প্রত্যেক সদস্যকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সভার নোটিশ নিশ্চিত করতে হবে।