নাটোরের বড়াইগ্রামে জরাজীর্ণ শহীদ মিনার ধসে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী গুরুতর আহত
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় একটি জরাজীর্ণ শহীদ মিনার ধসে পড়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধনাইদহ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী সায়মন হোসেন (১৭) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
সায়মন হোসেন ধনাইদহ গ্রামের বাবুল আক্তারের ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সহপাঠী জিহাদ ও রাহাতের বর্ণনা অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষে সায়মন মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারের নিচে যান। এ সময় হঠাৎ করে জরাজীর্ণ শহীদ মিনারের একটি স্তম্ভ ভেঙে তার উপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অচেতন হয়ে পড়েন।
সহপাঠীদের চিৎকার শুনে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, তবে তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন রয়ে গেছে।
অধ্যক্ষের বক্তব্য ও অবহেলার অভিযোগ
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আকমল হোসাইন জানান, শহীদ মিনারটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে যথাসময়ে সংস্কার না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, অবকাঠামোগত অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এই ঘটনার মূল কারণ।
এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
এই দুর্ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থার প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।



