কুমিল্লায় মাদ্রাসাছাত্রকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল, প্রিন্সিপাল বরখাস্ত
মাদ্রাসাছাত্রকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল, প্রিন্সিপাল বরখাস্ত

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোদালিয়া হাজী মনসুর আহমেদ একাডেমি (ইংলিশ ভার্সন) মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হাত বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ওই ছাত্রকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভুক্তভোগী রায়হান ওই প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ঘটনার বিবরণ

জানা গেছে, শিক্ষার্থী রায়হানকে ক্লাসরুম থেকে বের করে মাদ্রাসার মাঠে নেওয়া হয়। পরে অফিস সহায়ককে দিয়ে রায়হানের দুই হাত পেছনে বাঁধা হয় এবং ধর্মীয় শিক্ষককে বেত আনতে বলা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীকে মাঠের মাঝখানে ফেলে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে এবং ছেলেটি অনুনয়-বিনয় করছে। প্রায় চার মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছিলেন। নিজে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ করেছেন অনেকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাদ্রাসার কর্মচারী হামিদ মিয়া বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তিনি যে কাজ করেছেন, এটি খুবই অমানবিক ও নিষ্ঠুর। আমরা এর বিচার চাই।

প্রিন্সিপালের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, চক্রান্ত করে ভিডিওটি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি ওই ছাত্রকে শাসন করেছি মাত্র।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিষ্ঠাতার প্রতিক্রিয়া

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণফুলী শিপইয়ার্ডের মালিক ইঞ্জিনিয়ার রশিদ বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। এমন ঘটনা সে (প্রিন্সিপাল) ঘটাতে পারে, তা আমার কল্পনাতেও ছিল না। সে ঢাকা থেকে এসে শিক্ষার্থীদের ভালো পাঠদান করে আসছিল। হঠাৎ কেন এমন করেছে জানি না।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে বরখাস্ত করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, একজন প্রিন্সিপালের এমন কর্মকাণ্ড আমাদের ব্যথিত করেছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।