প্রবাদে আছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের অভিজ্ঞতা ও মর্যাদা বাড়ে। তবে নতুন এক গবেষণার তথ্য যদি বিশ্বাস করতে হয়, তবে বলতে হবে, মধ্যবয়সে পুরোপুরি পা দেওয়ার পরেই মানুষ সবচেয়ে বেশি সুখী হয়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক জরিপ বলছে, ৪০-এর কোঠার শেষ দিকে, বিশেষ করে ৪৭ বছর বয়সে মানুষ সবচেয়ে বেশি সুখী ও আত্মবিশ্বাসী বোধ করে।
গবেষণার বিবরণ
ওরাল হাইজিন ব্র্যান্ড তেপে-এর উদ্যোগে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর এই জরিপটি চালানো হয়। তেপে-এর ক্লিনিক্যাল অ্যাডুকেশন প্রধান ও ডেন্টাল থেরাপিস্ট মিরান্ডা পাসকুচ্চি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, এই বয়সে পৌঁছানোর পর মানুষ নেতিবাচক পরিবেশ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় এবং বাহ্যিক রূপচর্চার চেয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়।
স্বাস্থ্য ও সুখের সম্পর্ক
মিরান্ডা পাসকুচ্চি আরও বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বুঝতে শুরু করেন যে স্বাস্থ্য মানে কেবল বাইরের সৌন্দর্য নয়। এটি আসলে আপনি কেমন বোধ করছেন এবং আপনার শরীর কতটা ভালোভাবে কাজ করছে, তার ওপর নির্ভর করে।
সুস্বাস্থ্য ও সুখ জীবনের কোন পর্যায়ে শীর্ষে থাকে, তা জানতে ২ হাজার ব্রিটিশ নাগরিকের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাদের প্রায় অর্ধেকই বলেছেন, ৪০ বছরের পর জীবন আরও ভালো হয়ে ওঠে। কারণ, এ সময়ে তারা তাদের শরীরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
জরিপের ফলাফল
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ বলেছেন, ৪০-এর কোঠার শেষ দিকে মানুষের সুখ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন, এই বয়সে এসে তারা স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেন। আর বাকিরা বলেছেন, তারা এ বয়সে নিজেদের স্বাস্থ্য ও ভালো থাকার বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন থাকেন।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন
অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। ২০ বা ৩০-এর কোঠায় তারা যেভাবে পার্টি ও মদ্যপান করতেন, এই বয়সে এসে তা অনেকটাই কমে যায়। ২৮ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছেন, এই ধরনের উৎসব-আয়োজন তাদের জীবনে নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে, ২৬ শতাংশ জানিয়েছেন, ছেলেমেয়ে কিংবা নাতি-নাতনিদের পেছনে ছোটাছুটি করার কারণে তারা শারীরিকভাবে সচল থাকেন।
এছাড়া তারা আরও বলেছেন যে, এই বয়সে এসে তারা অন্যদের খুশি করার ইঁদুরদৌড় থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন এবং এর পরিবর্তে নিজের ওপর মনোযোগ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিফলন
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ৪০-এর কোঠায় থাকা মানুষ, বিশেষ করে নারীদের এমন অনেক পোস্ট দেখা যায়, যেখানে তারা বলছেন যে এই বয়সে এসেই তারা অবশেষে জীবনের সেরা সময় কাটাচ্ছেন। এটি কেবল নিজেকে ভালোভাবে জানার কারণেই ঘটে না, বরং এই সময়ে অনেকেই জীবনের ভিন্ন ভিন্ন স্তরে বা ভূমিকায় প্রবেশ করেন। ফলে তারা নিজের জন্য আরও বেশি সময় পান, যা তাদের কাছে একটি নতুন শুরুর মতো মনে হয়, যেখানে তারা নিজেদেরই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ



