ফ্রান্সফেরত প্রত্ননিদর্শনের সত্যতা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
ফ্রান্সফেরত প্রত্ননিদর্শনের সত্যতা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি

প্রদর্শনীর জন্য ১৯ বছর আগে ফ্রান্সে পাঠানো মহাস্থানগড় জাদুঘরের প্রত্ননিদর্শনগুলো আসল অবস্থায় দেশে ফিরেছিল কি না, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

গতকাল বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সই করা এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের কাছে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা

বিশেষজ্ঞ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছানকে। সদস্যসচিব হিসেবে আছেন সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নেছা খন্দকার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক ও অধ্যাপক মোকাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর আগে ফ্রান্সফেরত প্রত্ননিদর্শনগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা, তা খতিয়ে দেখতে শিবগঞ্জের ইউএনও জিয়াউর রহমানকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরই বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তদন্তের প্রেক্ষাপট

জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রদর্শনীর জন্য ফ্রান্সে পাঠানো বেশ কিছু প্রত্ননিদর্শন পরে মহাস্থানগড় জাদুঘরে ফেরত আসে। সেগুলো আসল অবস্থায় ফিরেছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

গত ১১ মে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সভায় উপস্থিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের কাছে কয়েকজন সদস্য ২০০৭ সালে ফ্রান্সফেরত প্রত্ননিদর্শনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে তিনি ইউএনওকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্ননিদর্শনের ইতিহাস

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে প্রদর্শনীর জন্য দেশের বিভিন্ন জাদুঘর থেকে কিছু প্রত্ননিদর্শন ফ্রান্সে পাঠানো হয়। এর মধ্যে মহাস্থান জাদুঘরের নিদর্শন ছিল ৪৭টি। প্রথম দফায় বেশ কিছু প্রত্ননিদর্শন পাঠানো হলেও দ্বিতীয় দফায় পাঠানোর সময় একটি মূর্তি বিমানবন্দরে হারিয়ে যায়। এরপর ফ্রান্সের সঙ্গে প্রদর্শনীর চুক্তি বাতিল করা হয় এবং পাঠানো নিদর্শনগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে সেগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা, তা আর যাচাই করা হয়নি।