সমুদ্রতলে ভূমিকম্পের গতি কমানোর রহস্যময় অঞ্চলের সন্ধান
সমুদ্রতলে ভূমিকম্পের গতি কমানোর অঞ্চলের সন্ধান

সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পের গতি কমিয়ে দিতে সক্ষম রহস্যময় অঞ্চলের সন্ধান পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, গাড়ির ব্রেক যেমন চলন্ত গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়, সমুদ্রের তলদেশে থাকা এই বিশেষ অঞ্চলগুলোও বড় ধরনের ভূমিকম্পের কম্পন ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয়। জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণার বিবরণ

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানার চেষ্টা করছিলেন কেন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এসে বড় বড় ভূমিকম্পের কম্পন কমে যায়। নতুন এ গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রশান্ত মহাসাগরের গোফার ফল্ট নামের একটি অঞ্চল বেছে নিয়েছিলেন। ফাটলটি ইকুয়েডর উপকূল থেকে প্রায় ১ হাজার মাইল দূরে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত। ৩০ বছর ধরে এই ফাটল এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় বছর পরপর ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

গঠন ও কার্যপ্রক্রিয়া

গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমিকম্পের গতি কমিয়ে দেওয়া অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রের পানি এবং পাথরের একটি জটিল সংমিশ্রণ রয়েছে। এই উপাদানগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলে ভূমিকম্পের কম্পনকে সামনের দিকে অগ্রসর হতে দেয় না। ফলে বড় ভূমিকম্প আঘাত হানার ঠিক আগে এই অঞ্চলগুলোতে তীব্র কম্পন বা ভূকম্পন হলেও ভূমিকম্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সম্পূর্ণ শান্ত হয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণার বিষয়ে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী জিয়ানহুয়া গং জানিয়েছেন, এ ধরনের বাধার অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই জানতেন বিজ্ঞানীরা। তবে এর প্রকৃত গঠন জানা ছিল না। বিজ্ঞানীদের মনে সব সময় প্রশ্ন ছিল এমন বাধা আসলে কী দিয়ে তৈরি? এগুলো কেন প্রতিটি ভূমিকম্পের চক্রে একইভাবে কম্পন থামিয়ে দেয়? এই ব্রেক জোন কোনো নিষ্ক্রিয় বৈশিষ্ট্য নয়। এগুলো ফাটল ব্যবস্থার অত্যন্ত সক্রিয় এবং গতিশীল অংশ। পৃথিবীর অন্য মহাসাগরগুলোর তলদেশেও একই ধরনের প্রাকৃতিক অঞ্চল থাকতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্রেক জোনের বৈশিষ্ট্য

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ভূমিকম্পের গতি কমিয়ে দেওয়া রহস্যময় অঞ্চলগুলো কোনো নিরেট বা শক্ত পাথরের দেয়াল নয়। এগুলো আসলে এমন কিছু জটিল অঞ্চল, যেখানে মূল ফাটলটি অনেকগুলো ছোট ছোট শাখায় বিভক্ত হয়ে গেছে। এর ফলে সেখানে অনেক ফাঁকা জায়গা বা ফাটল তৈরি হয়েছে। এই ফাটলের ভেতরে সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে পূর্ণ হয়ে থাকে। যখন কোনো বড় ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন এই এলাকায় আসে, তখন পানিতে ভরা ছিদ্রযুক্ত পাথরগুলো একে অপরের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে যাওয়ায় সমস্ত নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়, যা ফাটলের ভেতরে স্বয়ংক্রিয় ব্রেকের মতো কাজ করে।

সূত্র: এনডিটিভি