হান্টাভাইরাস শনাক্তে পিসিআর টেস্ট তৈরির গল্প
হান্টাভাইরাস আশঙ্কায় এমভি হন্ডিয়াস থেকে আসা যাত্রীরা পৌঁছান নেব্রাস্কা মেডিকেল সেন্টারে। সায়েন্টিফিক আমেরিকানের সাক্ষাৎকারে ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন কীভাবে তারা দ্রুত পিসিআর টেস্ট তৈরি করেছেন।
ল্যাবের ভূমিকা
পিটার আইয়েন বলেন, আমরা ল্যাবরেটরি রেসপন্স নেটওয়ার্কের অংশ। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জীবাণু দ্রুত শনাক্ত করাই আমাদের কাজ। ওমাহার নেব্রাস্কায় ন্যাশনাল কোয়ারেন্টিন ইউনিট ও স্পেশাল প্যাথোজেন ট্রিটমেন্ট সেন্টার রয়েছে। প্রমোদতরীর যাত্রীদের আগমনের খবর শুনে আমরা ইউনিটকে ল্যাব থেকে সাপোর্ট দেওয়ার পরিকল্পনা করি।
সিডিসির সীমাবদ্ধতা
সাধারণত আমরা সিডিসিকে ফোন করি। তারা জানায়, শুধু লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট আছে, কিন্তু লক্ষণহীনদের জন্য পিসিআর টেস্ট নেই। তখনই আমরা নিজেরাই টেস্ট তৈরি শুরু করি।
পিসিআর ও অ্যান্টিবডি টেস্টের পার্থক্য
পিটার আইয়েন ব্যাখ্যা করেন, অ্যান্টিবডি টেস্ট দেখে শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করেছে কি না, যা লক্ষণ প্রকাশের কয়েক দিন পর তৈরি হয়। পিসিআর টেস্ট নকশা করা হয়েছে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ কম থাকলেও তা ধরতে, অর্থাৎ লক্ষণ প্রকাশের আগেই শনাক্ত করতে পারে।
নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি
এমিলি ম্যাককাচেন বলেন, এ ক্ষেত্রে রক্ত নেওয়া হয়। এরপর ভাইরাসের আরএনএ আলাদা করে পিসিআর প্রক্রিয়ায় বহুগুণ বাড়ানো হয়। কোভিডের মতোই, শুধু নমুনার উৎস আলাদা।
টেস্ট তৈরির সময় ও চ্যালেঞ্জ
পিটার আইয়েন জানান, কাজটি সহজ ছিল না। প্রয়োজনীয় রাসায়নিক জোগাড় ও নিয়মকানুন তৈরি করতে মে মাসের ৯ ও ১০ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটিতে টানা কাজ করা হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত রাসায়নিক ছিল না। আন্দিজ হান্টাভাইরাসের আরএনএ ও অন্যান্য উপাদান জোগাড় করে শনিবার বিকেলে কাজ শুরু হয়। এমিলি রোববার গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন। রোববার রাত ৯টায় আমি সই করি। সোমবার রাত আড়াইটায় যাত্রীরা ইউনিটে পৌঁছান।
সিএলআইএ বৈধতা
এমিলি ম্যাককাচেন বলেন, সিএলআইএ ১৯৮৮ সালে তৈরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম, যা নিশ্চিত করে ল্যাবের টেস্টের মান ও ফলাফল দেশের অন্য যেকোনো জায়গার মতো নিখুঁত। নতুন টেস্টের জন্য নির্ভুলতা, সংবেদনশীলতা ও নিখুঁত হওয়ার হার পরীক্ষা করতে হয়।
প্রাথমিক টেস্টের তথ্য
এমিলি বলেন, ওই যাত্রীদের নেদারল্যান্ডসে টেস্ট করা হয়েছিল, আমরা তা করিনি। আমরা তথ্য ও নমুনার উৎস জানার চেষ্টা করছি, কিন্তু সফল হইনি।
নিয়মিত টেস্ট
পিটার আইয়েন বলেন, সবার টেস্ট হয়েছে কি না নিশ্চিত নই। রক্ত নেওয়ার জন্য সম্মতি লাগে। ল্যাবে নমুনা এলে আমরা টেস্ট করি। আমরা ওমাহা ও দেশের অন্যান্য জায়গায় টেস্টের প্রস্তাব দিয়েছি।
উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা
এমিলি বলেন, আমরা আশা করি উৎপাদন বাড়ানোর দরকার পড়বে না, তবে দরকার পড়লে তা সম্ভব, কারণ বৈধতা যাচাইয়ের সময়ই উপযুক্ত যন্ত্রপাতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
সিডিসির সঙ্গে যোগাযোগ
পিটার আইয়েন বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। সিডিসিতে জটিলতা থাকলেও তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ
এমিলি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রাখেন না, তবে নেব্রাস্কা মেডিকেল সেন্টার সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোলাবরেটিং সেন্টার হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। পিটার আইয়েন মনে করেন, আন্তর্জাতিক ঘটনা হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আলোচনায় রাখা জরুরি।



