ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে মারধর: জাবির এক শিক্ষার্থী বহিষ্কার, আরেকজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা
ফুটবল ম্যাচ নিয়ে মারধর: জাবির শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বড়পর্দায় আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান, একাডেমিক কার্যক্রম ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

গত ২২ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বড়পর্দায় আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আর্জেন্টিনা সমর্থক নাঈম আহমদ সানি। তবে সেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলায় খেলা সম্প্রচারে বিলম্ব হচ্ছিল।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত পৌনে ১১টার দিকে খেলার পর্দা বন্ধ হয়ে গেলে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, দর্শকরা মঞ্চ এলাকা খালি না করা পর্যন্ত খেলা চালু করা হবে না। এ সময় দ্রুত খেলা সম্প্রচারের পক্ষে কথা বললে তার সঙ্গে কিরণের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কিরণ মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাকে ধাক্কা দেন। পরে কিরণ, আসাদুজ্জামান ইমন, শাহানুর রহমানসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি শ্বাসরোধের চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি তার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ইমন এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমানের নাম উঠে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ জুন) রাত পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, তার সহপাঠী ও আবাসিক হলের বন্ধুরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপ-উপাচার্যদ্বয়, রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে ঘটনার সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

পরে বৃহস্পতিবার এক অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আসাদুজ্জামান ইমনকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পাশাপাশি শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে আবাসিক হলে অবস্থান, একাডেমিক কার্যক্রম ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অফিস আদেশে মাহমুদুর রহমান কিরণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ নেই।