চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান, সরকার ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকানের নিয়োগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতির পদেও রয়েছেন। এই নিয়োগের আগে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য হিসেবে মোহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার নিয়োগ লাভ করেছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকা, রাজশাহী, জগন্নাথসহ মোট ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকানের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত পটভূমি

অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মদনহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি মদনহাট উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং হাটহাজারী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত আছেন।

নিয়োগ বিষয়ে সংশয় ও দাপ্তরিক অবস্থা

নিয়োগের বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান প্রথম আলোকে বলেন, 'আমিও টিভিতে বিষয়টি দেখেছি এবং ফোনে অন্যদের থেকে শুনতে পারছি। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো নির্দেশনা বা চিঠি আমার কাছে আসেনি।' একইভাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, 'নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি আমিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখেছি। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো চিঠি আমাদের কাছে আসেনি।' এই মন্তব্যগুলি নিয়োগ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে কিছু সংশয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই নিয়োগটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে শিক্ষক সংগঠনগুলির ভূমিকা এবং সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় নীতির প্রেক্ষাপটে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন আনুষ্ঠানিক নথি ও নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতের কার্যক্রম নির্ধারণে সহায়ক হবে।