ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রমজানের মিলনমেলা: জেলাভিত্তিক সংগঠনের ইফতার আয়োজন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ মাঠে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গোল হয়ে বসে আছেন। রমজান মাসে এ দৃশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরিচিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাভিত্তিক সংগঠনের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করেন, যা এক মিলনমেলার আবহ তৈরি করে।
সংগঠনগুলোর ইফতার আয়োজনের প্রস্তুতি
৫ মার্চ বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে অন্তত দুটি সংগঠনের ইফতার আয়োজন চোখে পড়ল। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার শিক্ষার্থী সংগঠন কেএসএডিইউর ইফতারের প্রস্তুতি চলছিল। একই সময়ে ওপরের একটি কক্ষে ডাকসুর ইফতার-আয়োজনও প্রস্তুত হচ্ছিল। মলচত্বরের অবস্থা আরও জমজমাট ছিল, যেখানে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে বসে ইফতারের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিভিন্ন জেলার সংগঠনের কার্যক্রম
বরিশাল জেলার শিক্ষার্থী সংগঠন ‘বরিশাল জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ “চন্দ্রদ্বীপ”’ ১ মার্চ ইফতার আয়োজন করেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হামীম আল আজাদ জানান, ‘এবারের অভিজ্ঞতা খুবই চমৎকার ছিল। বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল আমাদের আয়োজন।’ কেএসএডিইউর সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের আয়োজনে উপস্থিতি কম হলেও প্রাক্তন ও বর্তমানদের অনেকেই অংশ নিয়েছেন।’
ফেনী জেলার শিক্ষার্থী সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ফেনী’ (ডুসাফ) প্রায় দেড় শ সদস্য নিয়ে কাজ করে। সংগঠনের সভাপতি ফারহান শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ইফতার আয়োজনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য হেল্প ডেস্ক পরিচালনা, ঈদ–পরবর্তী পুনর্মিলনী ও নবীনবরণের আয়োজন করি।’
শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কর্মসূচি
নাটোর জেলার শিক্ষার্থী সংগঠন ‘নাটোর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তির আয়োজন করে। সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামের আয়োজনও করি।’ ডুসাফ উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক গাইডলাইন সেমিনার আয়োজন করেছে এবং করোনার সময়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছে।
চন্দ্রদ্বীপের সাধারণ সম্পাদক হামীম আল আজাদ বলেন, ‘বর্তমানে বরিশাল জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছয় শতাধিক। আমরা তাদের সার্বিক কল্যাণ দেখভাল করি এবং প্রয়োজনে দিকনির্দেশনা দিই।’ তবে সংগঠনটি মাত্র বছরখানেকের হওয়ায় এখনো স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি, কিন্তু ভবিষ্যতে কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাটোর জেলার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম যোগ করেন, ‘এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিপদ-আপদে একে অপরের পাশে থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পরিচিতি বাড়ায়।’
