কুমিল্লায় কলেজ শিক্ষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ অজানা
কুমিল্লায় কলেজ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু রহস্য

কুমিল্লায় কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু রহস্য: ভাড়া বাসা থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে এক কলেজ শিক্ষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর বাজারের একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহে পচন ধরে যাওয়ায় ওই শিক্ষক কীভাবে মারা গেছেন, সেটি প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

শিক্ষকের পরিচয় ও কর্মস্থল

ওই শিক্ষকের নাম চাষী সাইফুল ইসলাম (৩৫)। তিনি জামালপুর সদরের রশিদপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের প্রয়াত মোবারক আলীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র সন্তান সাইফুল ইসলাম ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত ছিলেন। ২০২২ সালের ১ নভেম্বর থেকে রামচন্দ্রপুর অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজে ইংরেজি বিষয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ৮ মার্চ শিক্ষার্থীরা এসে সাইফুল ইসলামকে ডাকাডাকি করেছেন। কিন্তু ভেতরে কোনো সাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীরা চলে যান। আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁর বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী বলেন, ৫ মার্চ কলেজে ক্লাস করেছেন সাইফুল ইসলাম। এর পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না তাঁর। প্রায় সময় কাউকে কিছু না বলে কলেজে অনুপস্থিত থাকতেন তিনি। এ জন্য সবাই ভেবেছে তিনি আগের মতোই অনুপস্থিত আছেন।

পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত

মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। দুই দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশে পচন ধরে গেছে, মনে হচ্ছে ওই ব্যক্তি চার–পাঁচ দিন আগে মারা গেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে মারা গেছেন, সেটা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবার ও কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।